রাজনীতি

প্রথমে প্রোফাইল লক, পরে ডিঅ্যাকটিভেটেড

লতিফ সিদ্দিকীকে অবরুদ্ধ করেছিল কারা?

জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন একজন ব্যক্তি. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে অবরুদ্ধ করে একদল ব্যক্তি। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মন্ত্রিত্ব হারানো আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে অবরুদ্ধ করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করা একদল লোক। এ ঘটনায় নেতৃত্বদাতাদের মধ্যে একজন এমডি সাকিবুল হাসান চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার সময় ঘটনাটি ঘটে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিল ‘মঞ্চ ৭১’। প্রধান অতিথি হওয়ার কথা ছিল ড. কামাল হোসেনের, যদিও তিনি সেসময় উপস্থিত ছিলেন না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এমডি সাকিবুল হাসান চৌধুরী অন্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের ওপর চড়াও হন। ওই সময় তাকে হ্যান্ড মাইকে বলতে শোনা যায়, “একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর।”

এই সাকিবুল হাসান চৌধুরীর ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের আগেই তিনি সেখানে প্রতিহতের ঘোষণা দেন। তার বাড়ি মৌলভীবাজারে। পড়াশোনা করেছেন সিলেটের একটি মাদ্রাসায়। তার পুরো প্রোফাইলে কমবেশি জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট পোস্ট।

তার কাভার ছবিতে দেখা যায়, তিনি ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েমের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় আসার পর শুরুতে প্রোফাইল লক, পরে ডিঅ্যাকটিভেট করে ফেলেন সাকিবুল। তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

ডিআরইউতে ‘মঞ্চ ৭১’ এর ওই আলোচনায় প্রথমে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন। বক্তব্য শেষ হতেই হঠাৎ মিছিল নিয়ে ঢুকে পড়ে একদল যুবক। তারা স্লোগান দেয়: “জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার”, “লীগ ধর, জেলে ভর”, “জুলাইয়ের যোদ্ধারা, এক হও লড়াই করো।” পরে তারা আলোচনা সভার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে। অংশগ্রহণকারীদের অবরুদ্ধ করে রাখে।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশ পৌঁছালে অবরোধকারীরা লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান ও সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাসহ প্রায় ১৫ জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে তাদের পুলিশ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

অবরুদ্ধ হওয়ার পর লতিফ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, “আমি জানতাম না এখানে সমস্যা হবে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। শুধু আমন্ত্রণ পেয়েই অনুষ্ঠানে এসেছি।”

অন্যদিকে, অবরোধকারীদের পক্ষ থেকে আল আমিন রাসেল নামে একজন দাবি করেন, “আমরা জুলাই যোদ্ধা। এখানে পতিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতারা জড়ো হয়ে ষড়যন্ত্র করছে। সেটা আমরা মেনে নেব না।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পল্টন থানা জামায়াতের নেতা শামীম হোসাইন বলেন, “একটি মহল একাত্তর ও চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি, একাত্তর আমাদের ভিত্তি, আর চব্বিশ আমাদের মুক্তি। যারা এখানে (অনুষ্ঠানে) এসেছে, তারা চব্বিশের খুনের সঙ্গে জড়িত।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “লতিফ সিদ্দিকীকে হেফাজতে আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।”

শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর জানিয়েছেন, লতিফ সিদ্দিকী ও অন্যদের গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হতে পারে।

বিষয়:আবদুল লতিফ সিদ্দিকী জুলাই যোদ্ধা মঞ্চ ৭১

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…