গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য মতিচুর নাড়ু। দেড় বছর ধরে ছোট-বড় সকল বয়সী মানুষের প্রিয় খাবার মতিচুরের নাড়ু। দেশের গ্রাম অঞ্চলে মতিচুরের নাড়ু খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুব কমই আছে। আর যদি সিদ্ধ ভাতের তৈরি সুস্বাদু সেই নারু হয় তাহলে তো কোন কথাই নেই।
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মতিচুর নাড়ুর কথা শুনলেই জিহ্বায় জল এসে যায়, এমনটাই জানালেন এলাকার প্রবীর ভবেস্বর নাথ। তার মতে,এ এলাকায় বাপ-দাদার আমল থেকে তৈরি হয়ে আসছে এ সুস্বাদু মতিচুর নাড়ু। যার জন্য ছুটে ছুটে আসেন বিভিন্ন পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা। বংশ পরমপরায় মতিচুর তৈরি ও বিক্রি করেই এখন স্বাবলম্বী তিনি।
খানসামা উপজেলার ৫নং ভাবকী ইউনিয়নের দেবপাড়া গ্রামের মতিচুর বিক্রেতা লাল বাহাদুর ব্যতিক্রম মানুষ। ভাত ও আখের গুড় দিয়ে অত্যন্ত মুখরোচক মতিচুর নাড়ু তৈরি করে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করছেন তিনি। শুধু খানসামায় নয়,জেলা ছাড়িয়েও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও তার বাড়িতে ছুটে আসেন পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তার বাড়ি থেকে বিক্রি হয় হাজার হাজার মতিচুর নাড়ু। মতিচুর নাড়ু তৈরি করেই তিনি এখন স্বাবলম্বী। সেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে আরও কয়েকজনের। তিনি সপ্তাহে ১৮ হাজার থেকে সাড়ে ২০ হাজার মতিচুর তৈরি করেন। বিক্রি হয় প্রতিদিন।
সরেজমিনে লাল বাহাদুর বাড়িতে দেখা যায়, ক্রেতারা টাটকা ও গরম মতিচুর খেতে ব্যস্ত। সিরিয়াল ধরে বসে থাকে পাইকারেরা।মতিচুর বিক্রি করে পরিবারের যাবতীয় খরচ ও বাড়তি আয় করেন লাল বাহাদুর। তিনি বলেন, ব্যবসায় সপ্তাহে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রি হয়। এই উপার্জিত অর্থ মালামালের খরচ ও কয়েকজনকে শ্রম মজুর দেয়ার পর লভ্যাংশ দিয়ে ছেলের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার চলে তার।
লাল বাহাদুর এর হাতের হাতের ছোঁয়ায় চোখের সামনে তৈরি মতিচুর খেতে আসা স্থানীয় সাংবাদিক ফারুক আহম্মেদ বলেন, লাল বাহাদুরের মতিচুর নাড়ু কোন তুলনাই হয় না। অপূর্ব স্বাদ। যে একবার খাবে তাকে পুনরায় আসতে হবে তার মতিচুর খেতে।’
এ নাড়ু নিতে আসা নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর এলাকার মোকাররম মন্টু বলেন,’ভাই দু’তিন দিন পর পর আসি চার-পাঁচ হাজার নাড়ু নিয়ে যাই।আমি এসব খুচরা বিক্রেতাকে দেই। ভালোই চলে। এ নাড়ু বিক্রি করেই আমার সংসার শুধু নয়,আরো ৪/৫ জন খুচরা বিক্রেতার সংসার চলে। চাহিদা আছে অনেক। ঠিকিমত সাপ্লাই পাইনা।’
লাল বাহাদুর এখন মতিচুর লাড়ু তৈরি করে স্বাবলম্বী। তার এই সাফল্য এখন অনেকের অনুপ্রেরণা। তার দেখাদেখি আরো কয়েকজন প্রতিবেশি এ পেশা ধরেছেন।তৈরি করছেন,মতিচুর নাড়ু।







