লা লিগার ২০২৫/২৬ মৌসুম শেষ হতে কোন কোন দলের একটি করে ম্যাচ বাকি, রিয়াল-বার্সার মতো অনেক দলের মৌসুম আবার গত রাতেই শেষ হয়ে গেছে। ২০ দলের ১৮ টিই খেলে ফেলছে ৩৮টি করে ম্যাচ। শনিবার রাতে অ্যাথলেটিক ক্লাবকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন বার্সা ৩-১ গোলে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে হেরে গেছে। লিগে তৃতীয় স্থানের জন্য লড়ছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ এবং ভিয়ারিয়াল।
রোববার শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভিয়ারিয়াল ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, জয়ী দল লা লিগার তৃতীয় স্থান অর্জন করবে। টেবিলে দল দুটি সমান ৬৯ পয়েন্ট করে নিয়ে আছে তিন ও চারে। গোল ব্যবধানেও সমান দুদল। তবে সমীকরণে অ্যাটলেটিকোর চেয়ে বেশি গোল হজম করলেও দিয়েছে বেশি গোল, তাই টেবিলে উপরে আছে ভিয়ারিয়াল। অর্থাৎ, শেষ ম্যাচ ড্র হলে কিংবা ভিয়ারিয়াল জিতলে লা লিগার চলতি মৌসুমে তৃতীয় হয়ে শেষ করবে ক্লাবটি। অন্যদিকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ জিতলে তারা তিনে থেকে শেষ করতে পারবে।
লা লিগা থেকে ৫টি ক্লাব চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলবে। বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, ভিয়ারিয়াল এবং অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের সঙ্গী হয় রিয়াল বেটিস আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলবে। ২০ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল বেটিস।
শনিবার রাতে রিয়ালের বড় জয় বা বার্সার হার তেমন কোন বদল আনেনি টেবিলে। ম্যাচের ১২তম মিনিটে গঞ্জালো গার্সিয়া এবং ৪১তম মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম গোল করলে ব্যবধান দিগুণ হয় লস ব্লাঙ্কোসদের। ৪৫ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে ব্যবধান কমান গোর্কা গুরুজেটা। ৫১ মিনিটে তৃতীয় গোল যোগ করেন কাইলিয়ান এমবাপে। ৮৮ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের গোলে ৪-১এ এগিয়ে যায় রিয়াল। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে অ্যাথলেটিক ক্লাবের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন উরকো ইজেটা।
আরেক ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে ৬১তম মিনিটে বরার্ট লেভান্ডোভস্কির বার্সার হয়ে শেষ গোলে এগিয়ে যায় কাতালানরা। ৬৬ মিনিটে হাভিয়ের গুয়েরার গোলে সমতায় ফেরে ভ্যালেন্সিয়া। ৭১তম মিনিটে লুইস রিওজার গোলে লিড পায় স্বাগতিক দল। ম্যাচের ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে গুইদো রদ্রিগেজের গোলে ৩-১এ জয় পায় ভ্যালেন্সিয়া।
৩৮ ম্যাচে ৩১ জয়, ১ ড্র এবং ৬ হারে বার্সার পয়েন্ট ৯৪। শেষ ম্যাচ হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলেছিল কাতালানরা। অন্যদিকে ৩৭তম রাউন্ডে এল ক্ল্যাসিকোতে হেরে টানা দুটি শিরোপাহীন মৌসুম শেষ করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ৩৮ ম্যাচে ২৭ জয়ের বিপরীতে ৫টি ড্র ও ৬টি হারে তাদের পয়েন্ট ৮৬।
বার্সাকে হারানো ভ্যালেন্সিয়া ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে আছে নবম স্থানে। সর্বশেষ রিয়ালের কাছে হেরে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে ১২তম স্থানে রয়েছে অ্যাথলেটিক ক্লাব।
৩৮ ম্যাচে ১৪ জয় এবং ১২টি করে ড্র ও হারে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে সেল্টা ভিগো। আগামী মৌসুমে উয়েফা ইউরোপা লিগে খেলবে দলটি। অন্যদিকে ১০ম স্থানে থেকেও ইউরোপা লিগে খেলতে পারবে রিয়েল সোসিয়েদাদ। কারণ চলতি মৌসুমে কোপা ডেল রেতে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে স্প্যানিশ কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা।
৩৮ ম্যাচে ১৫ জয়, ৬ ড্র এবং ১৭ হারে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে গেটাফে। লা লিগার সাতে থাকা দল সরাসরি জায়গা করে নেয় উয়েফা কনফারেন্স লিগে।
লিগের ১৮, ১৯ এবং ২০তম স্থানে থাকা দল তিনটি অবনমিত হয়েছে দেশটির দ্বিতীয় স্তরের লিগে। ২০২৫/২৬ মৌসুমে মায়োর্কা, জিরোনা এবং রিয়াল ওভিয়েদোর অবনমন হয়েছে দ্বিতীয় স্তরের লিগ লা লিগা টুতে।
২০২৫/২৬ মৌসুমে শেষ ম্যাচ হওয়ার আগ পর্যন্ত ২৫ গোল করে শীর্ষে আছেন রিয়ালের কাইলিয়ান এমবাপে। ২৩ গোলে দুইয়ে মায়োর্কার বেদাত মুরিকী, ১৭ গোলে ওসাসুনার আন্তে বুদিমির রয়েছেন তিনে। ১৬টি করে গোল করে চার, পাঁচ এবং ছয়ে আছেন ফেররান তরেস, লামিন ইয়ামাল এবং ভিনিসিয়াস জুনিয়র।
লিগে মৌসুমে এপর্যন্ত সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের মালিক ইয়ামাল, ১১টি। ১০টি অ্যাসিস্টে দুইয়ে গেটাফের লুইস মিয়া। ৯টি করে অ্যাসিস্টে তিন, চার ও পাঁচে আছেন পেদ্রি, ফেরমিন লপেজ এবং আরদা গুলের।








