বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর উদযাপনের সময় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে একটি ব্যানার প্রদর্শন করেছিল আর্জেন্টিনা ফুটবলাররা। এ ঘটনায় আবারও আর্জেন্টিনা খেলোয়াড়দের কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। তার মতে, ফুটবল এবং রাজনীতিকে একসঙ্গে মেলানো মোটেও সমীচীন নয়।
গত ১৫ জুলাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মহাকাব্যিক জয়ের পর মাঠে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা। মাঠের ভেতর উল্লাসের একপর্যায়ে গ্যালারি থেকে সমর্থকদের ছুড়ে দেওয়া একটি ব্যানার হাতে তুলে নেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা। ব্যানারটিতে স্প্যানিশ ভাষায় স্পষ্টাক্ষরে লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আরহেনতিনাস’।
যার বাংলা অর্থ, ‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড) দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।’ ব্যানারটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্বের দাবির প্রতিই ইঙ্গিত করে সামনে আনা হয়েছিল। মিলেইর মতে এমনটা করা উচিত হয়নি খেলোয়াড়দের। বলেছেন, ‘ফুটবল শুধুমাত্র একটি খেলা। খেলোয়াড়দের আবেগপ্রবণ আচরণ বা রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্বমঞ্চে কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে। দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক আলোচনাই একমাত্র সঠিক উপায়, কোনো ফুটবল ম্যাচের উদযাপন নয়।’
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই ঐতিহাসিক গোলগুলোর কথাও স্মরণ করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘ম্যারাডোনার কোনো গোলই আমাদের মালভিনাস ফিরিয়ে দিতে পারেনি।’
এমনকি নিজের অবস্থানের সমর্থনে পপ সম্রাট এলভিস প্রেসলির উদাহরণ টেনে আনেন মিলেই । বলেছেন, ‘ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রেসলি বলেছিলেন যে তিনি বিনোদন জগতের মানুষ, রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেন না।’
মিলেইর মতে খেলা ও রাজনীতি আলাদা রাখা উচিত। বলেছেন, ‘তেল আর জল যেমন মেশে না, খেলা আর রাজনীতিও তেমনই আলাদা রাখা উচিত।’
খেলোয়াড়দের সমালোচনা করলেও আবেগের বিষয়টি অনুধাবন করেছেন মিলেই। বলেছেন, ‘ম্যাচের আবেগ থেকে খেলোয়াড়রা হয়তো এটি করে ফেলেছেন, কিন্তু রাজনীতিকদের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটলে তা যুদ্ধের ঘোষণার শামিল হতে পারে।’
মিলেই দাবি করেছেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর্জেন্টিনা কূটনৈতিক পথে অনেকটা এগিয়েছে। বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনা জাতিসংঘের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যকে আলোচনার টেবিলে বসাতে সক্ষম হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে। সরকারের কার্যকর কূটনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং যুক্তরাজ্যের কিছু মহলও এখন আর্জেন্টিনার অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।
কয়েক দিন আগেও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সমালোচনা করেন মিলেই। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘খেলোয়াড়েরা কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ নয়। তারা বোকার মতো কাজ করেছে।’







