গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে হামাসের নেতাদের সঙ্গে মিসরে বৈঠক করেছেন ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত জ্যারেড কুশনার। তবে ইসরায়েল এরই মধ্যে ওই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে এক ফিলিস্তিনি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রটি জানায়, মিসরের আল-আলামেইন শহরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে হামাসের নেতারা গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়গুলো কুশনারের কাছে তুলে ধরেন। জবাবে কুশনার জানান, গাজার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করে।
বৈঠকে হামাসের রাজনৈতিক নেতা খলিল আল-হাইয়াও উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট আরেক কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত রোডম্যাপের বিভিন্ন শর্তকে বাস্তব ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপে রূপ দেওয়াই ছিল বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য।

সূত্রটি আরও জানায়, হামাসকে গাজার শাসনক্ষমতা, সব অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো ছেড়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে গাজা যেন ভবিষ্যতে ইসরায়েলের জন্য ‘সন্ত্রাসের উৎস’ না হয়, সেটিও নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে মিসরের গোয়েন্দাপ্রধান হাসান রাশাদ, কাতারের কূটনীতিক আলি আল-থাওয়াদি এবং তুরস্কের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।
কুশনারের সঙ্গে ‘বোর্ড অব পিস’-এর দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ এবং বোর্ডটির সদস্য ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও বৈঠকে অংশ নেন।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনাটি নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান ইতিবাচক নয়। ইসরায়েল এরই মধ্যে পরিকল্পনাটি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে হামাসের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও পরবর্তী প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির চেষ্টা করছে। তবে হামাসের অস্ত্র ত্যাগ, গাজার প্রশাসনে তাদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার মতো বিষয়গুলো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।










