সাফের শিরোপা জয় নিয়ে যদি লিখতে হয় গৌরবগাঁথা, সাফল্য নিয়ে ইতিহাস, নিশ্চিতভাবেই অধ্যায়টা কৃষ্ণা রাণী সরকারকে ছাড়া অসম্পূর্ণ থাকবে। সাউথ এশিয়ার ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের ফাইনালে তার জোড়া গোলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। দেশের মেয়েদের ফুটবলে আসে সোনালী দিন। দলের অপরিহার্য এই তারকার ক্যারিয়ার যেন ধ্বংসের পথে রয়েছে! গুরুতর চোট তার মাঠে ফেরায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। কৃষ্ণার চিকিৎসায় বাফুফের উদাসীনতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বৃহস্পতিবার রাতে দীর্ঘ এক পোস্ট লিখেছেন কৃষ্ণা। নিজের চোট ও চিকিৎসা নিয়ে হতাশার বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। নিচে তুলে ধরা হচ্ছে তার কথাগুলো।
‘২০২২-এ সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে ইনজুরিতে পড়ি। প্রায় দেড় বছর হয়ে গেছে। পা আগে থেকে ভালো। কিন্তু এখনো পুরোপুরি ঠিক হয়ে উঠতে পারিনি। প্র্যাকটিস করলেই ব্যথা হয়। বাফুফে ফিজিও দিয়ে আমার ট্রিটমেন্ট চলছে। সবাই জানে ইনজুরিটা অনেক রেয়ার। ব্যথা নিয়েই প্র্যাকটিস করছি। দেশে অনেক ডাক্তার দেখিয়েছে, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।’
‘২০২৩ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ফিজিও দেবাশীষ চৌধুরী স্যারকে দেখিয়েছিলাম। উনি প্রায় আমাকে অনেকদিন দেখেন, যখন ব্যথা কমছিল না। স্যার বলেছিলেন অস্ট্রেলিয়া, ইন্ডিয়া গিয়ে ট্রিটমেন্ট করাতে। কিন্তু যখন আমি বাফুফেকে জানাই, উনারা বলেন আরও কিছুদিন দেশে ডাক্তার দেখাতে। আমি অনেকদিন তাদেরকে ইন্ডিয়াতে যাওয়ার কথা বলছি। কিন্তু উনারা আমার কথায় কোনো গুরুত্ব দেয়নি। আজও পর্যন্ত ব্যথা নিয়ে প্র্যাকটিস করছি।’
‘২০১৩ সালে অনূর্ধ্ব-১৪ দলে সুযোগ পাই এবং ২০১৪ সালে সিনিয়র জাতীয় দলে সুযোগ পাই। সেখান থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কখনো কোনো দলের বাইরে থাকতে হয়নি। প্রায় ১০ বছর একটানা জাতীয় দলের হয়ে খেলেছি। টুকটাক ইনজুরিতে পড়েছি। কিন্তু হঠাৎ করে এত বড় ইনজুরিতে পড়বো, কখনো ভাবিনি। অনেকদিন রেস্টে থাকার পর আর ভালো লাগছিল না এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলাম। তাই ব্যথা নিয়ে প্র্যাকটিস চালিয়ে যাচ্ছি।’
‘চায়নাতে যখন এশিয়ান গেমস খেলতে যাই, তিনটা ম্যাচ বেঞ্চে বসে কাটিয়েছি। ব্যাক টু ব্যাক দুইটা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে গেলাম। একজন প্লেয়ার হিসেবে এইটা মেনে নেওয়া খুব দুঃখজনক।’
‘কষ্ট একটাই কখনো কোনো টিমমেট, প্লেয়ার বা কোচকে বলতে দেখলাম না, কৃষ্ণার ইনজুরি, তাকে তাড়াতাড়ি ট্রিটমেন্ট করানো হোক। কারোর কোন মাথাব্যথাই নেই। ১০ বছরের পরিশ্রম এক নিমিষে শেষ।’
‘অনেক প্লেয়ারকে দেখেছি এভাবে হারিয়ে যেতে। মনে হয় সেই দিনটা আর বেশি দিন নেই কৃষ্ণার জন্য। সবাই আমার জন্য আশীর্বাদ এবং দোয়া করবেন। যাতে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ি। আবার আগের মতো মাঠে ফিরতে পারি।’
ফেসবুক পোস্টের একদম শেষে কৃষ্ণা বিশেষ দ্রষ্টব্যতে লিখেছেন, ‘মনের কিছু কথা শেয়ার করলাম। কারোর খারাপ লাগে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।’
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ছয় মাস আগে ফিফার দুই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচেই অভিজ্ঞ এ ফরোয়ার্ড চোটের কারণে স্কোয়াডে ছিলেন না। সদ্য সমাপ্ত মেয়েদের ফুটবল লিগে নাসরিন স্পোর্টস একাডেমির হয়ে খেলেন। তবে চাইনিজ তাইপের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে কৃষ্ণার নাম নেই।
জাতীয় নারী দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘সে পূর্ণাঙ্গ ফিট নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আনফিট খেলোয়াড় আমি নিতে পারি না।’










