কৃষি মার্কেটের নাহার হোটেলের পাশে পোড়া সবজির দোকানগুলোর সামনে মাথায় হাত দিয়ে বসে কাঁদছিলেন কিশোর শহিদুল। চারদিক আগুনের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হলেও অঝরে কেঁদে যাচ্ছিলেন শহিদুল। শুধু বলছিলেন ‘আমরারে এখন কে দেখব’?
একটি ক্রোকারিজের দোকানের কাজের পাশাপাশি ভ্যানে মনোহারির হরেক রকমের পশরা সাজিয়ে নানান সামগ্রী বিক্রি করত শহিদুল ও তার ভাই। তাদের ওই পণ্যগুলোও পুড়ে ছাই।
কৃষি মার্কেটটিতে বৈধ অবৈধ ৫শর বেশি দোকান ছিল। এসব দোকানে কাজ করে ২ হাজারের বেশি মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতেন। এ মার্কেটে সবজি দোকানের পাশাপাশি জুতার দোকান, স্বর্ণের দোকানসহ অনেক ধরনের দোকান রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পুড়ে যাওয়া দোকানগুলোতে কোটি কোটি টাকার মালামাল ছিল।
শহিদুলের ভাষ্য, বাবা নাই, ঘরে মা অসুস্থ। দুই ভাই টেনে টুনে সংসার চালাতাম। আমরারে দেখার এখন আর কেউ নাই। শহিদুল জানান, আগুনের খবর পাবার পর দোকানে এসে কিছুই বের করতে পারেন নাই। সব পুড়ে গেছে। প্রচুর ধোঁয়ায় দম বন্ধ হবার মতো অবস্থা ছিল।
কৃষি মার্কেটে কাপড়ের দোকানি মাহবুব হাসান বলেন, তার দোকানে লাখ পাঁচেক টাকার মালামাল ছিল। প্রথমে হক বেকারিতে আগুন লাগে। পরে সেই আগুন ছড়িয়ে যায়। মার্কেটে ৫০০ এর বেশি দোকান পুড়েছে।
রফিক নামে এক জুতার দোকানি বলেন, প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভেতরে ঢুকতে পারলে আগুনে এত দোকান পুড়তো না। সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে আমাদের। দোকান থেকে কিছুই বের করতে পারিনি। আজ আগুন পুড়ল শত শত ব্যবসায়ীর কপাল।
ওয়াহিদ নামে কাপড়ের এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। তখনো তার দোকানে আগুন লাগেনি। প্রায় ৩০ মিনিট পর দোকানে আগুন লাগে। দোকানটি মার্কেটের ভেতর হওয়ায় তিনি সেখানে যেতে পারেননি। দুই মার্কেটে প্রায় পাঁচশোর বেশি দোকান ছিল, সব পুড়ে গেছে।
আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
রাতে আগুন লাগার পর প্রথমে ৭টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। পরে একে একে ১৭টা ইউনিট কাজ শুরু করে।
মার্কেটের ডান পাশের হক বেকারি থেকে আগুনের সূত্রপাত। পরে পুরো মার্কেটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এখন এ মার্কেটের বেশিরভাগ অংশ ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে। পুড়ে ছাই হয়েছে শত শত দোকান।
বৃহস্পতিবার ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে লাগা আগুন। এর আগে বুধবার ১৩ সেপ্টেম্বর দিনগত রাত ৩টা ৪৩ মিনিটের দিকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট। ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অগ্নিনির্বাপণ সাহায্যকারী দল।








