বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে শনিবার মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বৈষম্যের শিকার ব্যাংকটির দশম গ্রেডের কর্মকর্তারা। বৈষম্য দূর করা না হলে রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে সর্বাত্মকভাবে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বৈষম্য চলছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে। ব্যাংকটিতে নবম গ্রেড থেকে ওপরে থাকা কর্মকর্তাদের নিয়মিত পদোন্নতি হলেও বৈষম্যের শিকার দশম গ্রেডের কর্মকর্তারা। অথচ কৃষি ব্যাংকের মোট জনবলের অর্ধেকের বেশি দশম গ্রেডের কর্মকর্তা। অন্য গ্রেডের কর্মকর্তাদের বিধান অনুযায়ী তিন বছর পরপর পদোন্নতি হলেও দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির জন্য অপেক্ষা করতে হয় সাত থেকে আট বছর।
অনেক ক্ষেত্রে এ সময়ের পরেও অনেকের পদোন্নতি মেলে না। তাই দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত থাকায় অসন্তোষ জন্ম নিয়েছে কর্মকর্তাদের মাঝে। বারবার দাবি জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পদোন্নতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হন দশম গ্রেডের কর্মকর্তারা।
আন্দোলনকারীরা জানান, একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তিন বছরের মাথায় মুখ্য কর্মকর্তা হচ্ছেন। একইভাবে মুখ্য কর্মকর্তা থেকে ঊর্ধ্বতন মুখ্য কর্মকর্তা থেকে সহকারি মহাব্যবস্থাপক প্রতি ধাপেই তিন বছরে পদোন্নতি পাচ্ছেন। অথচ ২০০৮ সালের প্রবিধানমালায় দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য একই কথা লেখা থাকলেও ভয়াবহ বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তারা। তিন বছর তো দূরের কথা দশম গ্রেডের কর্মকর্তারা সাত থেকে আট বছরেও পদোন্নতি পাচ্ছেন না।
বৈষম্যবিরোধী কর্মকর্তাদের দাবি, কৃষি ব্যাংকের মোট ১০ হাজার ২৭ জন জনবলের মধ্যে ৫ হাজার ২৭২ জন শুধু দশম গ্রেডের কর্মকর্তা। এই সিংহভাগ জনবলই ব্যাংকের প্রাণ। ঋণ আদায়, বিতরণ, আমানত সংগ্রহ, কিংবা প্রাত্যহিক গ্রাহকসেবা এসবের বেশিরভাগ কাজই এই গ্রেডের কর্মকর্তারা করে থাকেন। তাই নানা ধরনের অব্যবস্থাপনার মধ্যেও প্রতি বছর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত সব লক্ষ্যমাত্রা সন্তোষজনকভাবে অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে। অথচ এই গ্রেডের জনবলই সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার। ২৭ আগস্ট ব্যবস্থাপনা পরিচালককে স্মারকলিপি দিয়ে দাবির কথা জানিয়ে ৭ কর্মদিবস সময় দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই কর্মকর্তারা মনে করছেন বৈষম্যমূলক এই স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে যাবেন।








