হাজার দিনেরও বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি পাওয়ার মুহূর্তটি হাসিমাখা উদযাপন করলেন বিরাট কোহলি। প্রথম টি-টুয়েন্টি শতক তুলে কাটালেন সেঞ্চুরি খরা। ৬১ বলে ১২২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে থামালেন হরেক আলোচনা-সমালোচনা। কোহলি-শোর পর আলো কাড়লেন আরেকজন। বল হাতে রুদ্ররূপ ধারণ করলেন ভূবনেশ্বর কুমার। তার ৫ উইকেটে ভূপাতিত আফগানিস্তান। ১০১ রানের বিশাল জয়ে এশিয়া কাপ যাত্রা শেষ করল ভারত।
টি-টুয়েন্টিতে এটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বাধিক রানের ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড। ২০১৮ সালে ডাবলিনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪৩ রানে জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া।
বৃহস্পতিবার দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিয়মরক্ষার ম্যাচে নেমেছিল ভারত-আফগানিস্তান। এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের আসর থেকে বিদায় নেয়ার পর সুপার ফোরে নিজেদের শেষ ম্যাচে দাপুটে খেলেছে টিম ইন্ডিয়া। টসে হেরে আগে ব্যাট করে ২ উইকেটে ২১২ রানের পাহাড় গড়েছে। ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া আফগানিস্তানকে ৮ উইকেটে ১১১ রানে থামিয়েছে।
২১৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নামা আফগানরা শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারায়। প্রথম ওভারে ভূবনেশ্বর কুমারের বলে লেগ বিফোরে কাটা পড়েন হজরতউল্লাহ যাজাই। একই ওভারের শেষ বলে ভূবনেশ্বরের ইনসুইংয়ে পরাস্ত হয়ে বোল্ড রানের খাতা না খোলা রহমতউল্লাহ গুরবাজ। এক রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে আফগানরা।
তৃতীয় ওভারেও জোড়া উইকেট তুলে নেন ভূবনেশ্বর। চতুর্থ বলে করিম জানাত ২ রান করে প্রথম স্লিপে থাকা বিরাট কোহলির হাতে ধরা পড়েন। শেষ বলে এলবিডব্লিউ হয়ে কোনো রান না করে ফেরেন নাজিবুল্লাহ জাদরান।
পেসার আর্শদ্বীপ সিং প্রথম ওভারে পান উইকেট। তার বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ৭ রান করে ক্রিজ ছাড়েন আফগান অধিনায়ক মোহাম্মাদ নবি।
টানা চতুর্থ ওভারে বোলিং করতে এসে স্লোয়ারে মাত করেন ভূবি। তার নাকল ডেলিভারিতে বোকা বনে যান আজমতউল্লাহ ওমরজাই। তিনি আগেভাগেই শট খেলে দীনেশ কার্তিকের তালুবন্দি হন। তাতে ৪ ওভারে এক মেডেনসহ কেবল এক ইকোনমি রেটে ৪ রান খরচায় ৫ উইকেট দখল করে নেন বিধ্বংসী ভূবনেশ্বর। ওমরজাইয়ের উইকেট নেয়ার মধ্য দিয়ে ডানহাতি পেসার যুজবেন্দ্র চাহালকে ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে ভারতের সর্বাধিক ৮৪ উইকেটের মালিক বনে গেছেন।
একইসঙ্গে ৩২ বর্ষী পেসার টি-টুয়েন্টিতে এক ম্যাচে যৌথভাবে দ্বিতীয় সেরা ইকোনমি রেটে বোলিংয়ের কীর্তি গড়েছেন। ২০১৯ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৪ ওভারে ২ মেডেনসহ এক ইকোনমি রেটে ৪ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার ডানহাতি পেসার পেড্রো আরিঘি। ২০১৪ সালে হংকংয়ের আইজাজ খান নেপালের বিরুদ্ধে ৪ ওভারে এক মেডেনসহ এক ইকোনমি রেটে ৪ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এক ম্যাচে সেরা ইকোনমি রেটে বোলিংয়ের বিশ্বরেকর্ডের মালিক কুয়েতের মোহাম্মদ আসলাম। ২০২০ সালে সৌদি আরবের বিপক্ষে এ অলরাউন্ডার ৪ ওভারে এক মেডেনসহ ৩ রানে ২ উইকেট নিয়েছিলেন। তার ইকোনমি রেট ছিল ০.৭৫।
ভূবি তোপের পর ইব্রাহিম জাদরানের সঙ্গে রশিদ খান সপ্তম উইকেটে ৩৩ রানের জুটি গড়ে দলীয় স্কোর কোনোমতে ৫০ পেরোতে সহায়তা করেন।
১৪তম ওভারে এবারের টুর্নামেন্টে প্রথমবার বল হাতে দেন দীপক হুদা। প্রথম বলেই পান উইকেট। শর্ট বলে ১৫ রান করা রশিদ মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে অক্ষর প্যাটেলের হাতে ধরা পড়েন। আফগানিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ৫৪ রান।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে পরাজয়ের ব্যবধান কমাতে মরিয়া হন মুজিব উর রহমান। ১৩ বলে ২ চার ও এক ছক্কায় করেন ১৮ রান। রবীচন্দ্রন অশ্বিনের ক্যারম বলে মুজিব বোল্ড হন। ইব্রাহিমের সঙ্গে ৩৩ রানের জুটি গড়ে যান মুজিব।
ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন ইব্রাহিম জাদরান। ৫৯ বলে ৪টি চার ও ২ ছক্কায় তিনি ৬৪ রানে অপরাজিত থাকেন। দীনেশ কার্তিকের করা শেষ ওভারে দুই ছক্কা মেরে ১৮ রান তোলেন।
ভূবনেশ্বরের ৫ উইকেটের পাশাপাশি একটি করে উইকেট পান আর্শদ্বীপ,অশ্বিন ও হুদা।
এসবের আগে আফগানিস্তানের স্পিন কিংবা পেস, রশিদ-মুজিব হয়ে ফরিদ-ফারুকি, সবাইকে বাজে দিন উপহার দিয়েছেন ভারতের ব্যাটাররা। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে দলটি তোলে ১১৯ রান। কোহলিকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তনে নামেন এদিনের অধিনায়ক লোকেশ রাহুল।
রোহিত শর্মা না থাকার দিনে নেতা রাহুল ফিরে পেয়েছেন নিজের ফর্ম। ৪১ বলে ৬টি চার ও দুটি ছক্কায় করেছেন ৬২ রান। তিনে নেমে সূর্যকুমার যাদব খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটের অন্যতম ব্যাটার ২ বল খেলে করে যান ৬ রান। পরে ৭ ওভারে ৮৭ রানের জুটি গড়েন কোহলি ও রিশভ পান্ট।
শেষ পাঁচ ওভারে দুজনে ওভারপ্রতি তোলেন প্রায় ১৬ রান করে। ১৬ বলে ৩ চারে ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন পান্ট। ২০১৯ সালের নভেম্বরের পর আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শতরান তোলা কোহলি খেলেন ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ৬১ বলে ১২২ রানের ইনিংস সাজান। সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটার খেলেছেন দুইশ স্ট্রাইক রেটে। ৫৩ বলে তিনঅঙ্ক ছোঁয়ার দিনে কোহলি মোট হাঁকিয়েছেন ১২ চার ও ৬ ছক্কা।
কোহলির দিনে বোলিংয়ে আফগানদের প্রায় সব বোলার ভুগেছেন। ৪ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন ফরিদ আহমেদ। ৩৩ রান দিলেও উইকেট শূন্য ছিলেন রশিদ খান। ২৯ রান খরচ করেও সাফল্য পাননি মুজিব উর রহমান।








