দাপুটে বোলিংয়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে স্বল্পরানে থামিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। রানতাড়ায় নেমে দুর্দান্ত ছিল কলকাতার টপঅর্ডার। দুই ওপেনারের দুরন্ত শুরুর পর শ্রেয়াস আয়ার ও ভেঙ্কটেশ আয়ারের অপ্রতিরোধ্য জুটিতে বড় জয় পেয়েছে কেকেআর। ৮ উইকেটের জয়ে চতুর্থবারের মতো শিরোপার মঞ্চে বলিউড কিংবদন্তি শাহরুখ খানের দল।
২০১২ সালে প্রথমবার ফাইনালে উঠেছিল কলকাতা। প্রথম শিরোপা আসে সে আসরে। ২০১৪ সালে দ্বিতীয় শিরোপা জেতে কেকেআর। সবশেষ ২০২১ সালে ফাইনালে ওঠে দলটি, শিরোপার লড়াইয়ে সে আসরে চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে ২৭ রানে হেরে যায়।
অন্যদিকে কলকাতার কাছে হারলেও ফাইনালের আশা শেষ হয়ে যায়নি প্যাট কামিন্সদের। বুধবার এলিমিনেটর ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও রাজস্থান রয়্যালসের মধ্যে বিজয়ী দলের মুখোমুখি হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মঙ্গলবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নেয় হায়দরাবাদ। মিচেল স্টার্ক ও বরুণ চক্রবর্তীর তোপে ইনিংসের তিন বল বাকি থাকতে ১৫৯ রানে গুটিয়ে যায় হায়দরাবাদের ইনিংস। জবাবে নেমে ৩৮ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে কেকেআর।
লক্ষ্যতাড়ায় নেমে কলকাতাকে দুরন্ত শুরু এনে দেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও সুনীল নারিন। উদ্বোধনী জুটিতে ৪৪ রান তোলেন দুজনে। ৩.২ ওভারে ১৪ বলে ২৩ রান করে গুরবাজ ফিরে গেলে জুটি ভাঙে। ৬.২ ওভারে দ্বিতীয় উইকেট হারায় নাইট রাইডার্স। নারিন ফিরে যান ১৬ বলে ২১ রান করে।
পরে দুই আয়ারের ৯৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয় নিশ্চিত করে কলকাতা। পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কায় ২৮ বলে ৫১ রান করেন ভেঙ্কটেশ আয়ার। ২৪ বলে ৫৮ রান করেন শ্রেয়াস আয়ার। কলকাতা অধিনায়কের ইনিংসেও ছিল পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কার মার।
হায়দরাবাদের হয়ে একটি করে উইকেট নেন প্যাট কামিন্স ও নটরাজন।
আগে ব্যাটে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে হায়দরাবাদ। ১৩ রানে ফিরে যান দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মা। তিনে নামা রাহুল ত্রিপাঠি একপ্রান্তে হাল ধরলেও ৩৯ রানে অন্যপ্রান্তের আরও দুই ব্যাটারকে হারায় দলটি। ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান নিতিশ কুমার রেড্ডি ও শাহবাজ আহমেদ।
ছয়ে নামা হেইনরিখ ক্লাসেনকে নিয়ে শতরানের ঘরে পৌঁছান রাহুল। ১০১ রানে ক্লাসেন ফিরে যান ২১ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলে। ১২১ রানে ফিরে যান রাহুলও। তার আগে অবশ্য সাতটি চার ও এক ছক্কায় ৩৫ বলে ৫৫ রানের ইনিংস খেলেন। শেষদিকে প্যাট কামিন্সের ২৪ বলে ৩০ রানের লড়াকু ইনিংসে ১৫৯ রানে থামে হায়দরাবাদ।
কলকাতার হয়ে মিচেল স্টার্ক তিনটি এবং বরুণ চক্রবর্তী দুটি উইকেট নেন।








