যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই কারণে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় দিনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, চুক্তির খসড়া অনুমোদিত হয়েছে এবং স্বাক্ষরের সময় ও স্থান শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।
আজ ১২ জুন শুক্রবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য সমঝোতার আলোচনা একদিকে সংঘাত প্রশমনের আশা তৈরি করলেও, অন্যদিকে সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র খুব কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপসহ বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার হুমকিও দিয়েছিলেন।
তবে তেহরান থেকে পাওয়া তথ্য ভিন্ন চিত্রও তুলে ধরছে। সেখানে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) নিয়ে প্রস্তাব দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিবেচনায় রয়েছে। যদিও চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি, তবে এই বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে ইরানের সামরিক পদক্ষেপ। বৃহস্পতিবার ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের টানা দ্বিতীয় দিনের হামলার জবাবে তারা বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণাও দেয় আইআরজিসি।
অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলাও অব্যাহত রয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৭১১ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৪৮৩ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক বোমাবর্ষণ অব্যাহত ছিল।







