ভারতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ ২৪ বছর পর অ-গান্ধী (গান্ধী পরিবারের বাইরে) নাকি গান্ধী প্রভাবিত প্রার্থী জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হতে চলেছেন, তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। মল্লিকার্জুন খাড়গে ও শশী থারুরের মধ্যে কে হবেন জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি?
বুধবার ১৯ অক্টোবর দিল্লির কনগ্রেসের সদর দপ্তরে শুরু হয়েছে ভোট গণনা। কংগ্রেস সভাপতি পদে যোগ্য ব্যক্তি লড়াই বহুদিন ধরেই চলছে। গান্ধী পরিবারের বাইরে দলের সভাপতি নির্বাচন আয়োজনেও দীর্ঘ সময় লেগেছে। চলেছে নানান জল্পনা।
বিকেলে জানা যাবে নতুন সভাপতির নাম
নির্বাচনে, কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং দলের আরও অনেক সিনিয়র নেতা সহ দলের ৯ হাজার ৯১৫ প্রতিনিধি সোমবার নতুন সভাপতি নির্বাচনের জন্য ভোট দিয়েছেন। ভোট পড়েছে প্রায় ৯৬ শতাংশ। দিল্লির কংগ্রেসের সদর দপ্তরের স্ট্রং রুমে ভোট গণনা শেষে বিকেল ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করা হবে।
খাড়গে জয়ী হলে গান্ধী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে
গান্ধী পরিবারের দীর্ঘদিনের অনুগত মল্লিকার্জুন খাড়গে ভোটের দৌড়ে সামনে দেখা যাচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, খাড়গে জয়ী হলে দলটি গান্ধীদের দ্বারা ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রিত হবে।
মল্লিকার্জুন খড়গে নিজেও বলেছেন, তিনি যদি সভাপতি পদে নির্বাচিত হন তবে দলের বিষয়ে গান্ধী পরিবারের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিতে তার কোনও দ্বিধা থাকবে না, কারণ সেই পরিবার অনেক লড়াই করেছে এবং অবদান রেখেছে। দলের উন্নয়নে অনেক ইতিহাসের সাক্ষী থেকেছে গান্ধী পরিবার।
গান্ধী প্রভাবিত প্রার্থীই সভাপতির চেয়ারে?
সত্যিই কি এবার গান্ধী প্রভাব মুক্ত কোনও সভাপতির দেখা মিলবে কিনা, তা নিয়ে ঘুম হারাম রাজনৈতিক সমালোচক ও বিশ্লেষকদের। তাদের দাবি, গান্ধী পরিবারের প্রস্তাবেই ভোটে লড়ছেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। ভোট পূর্ববর্তী সমীক্ষা বলছে তারই জয় নিশ্চিত।
কংগ্রেসের অস্বীকার
মল্লিকার্জুন খড়গে গান্ধী পরিবারের প্রস্তাবেই ভোটে লড়ছেন, এমন বিষয়গুলো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা জয়রাম রমেশ এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, এই অভিযোগগুলো সমালোচকরা ব্যবহার করছে। দুই যোগ্য ব্যক্তি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন ছিল।
দুই প্রার্থীই বলছেন নির্বাচনে গান্ধীরা নিরপেক্ষ
দুই সভপতি প্রার্থী মল্লিকার্জুন খাড়গে ও শশী থারুর দু’জনই বলছেন গান্ধীরা নির্বাচনের বিষয়ে নিরপেক্ষ। শশী থারুর জানান, দলের নেতারা এবং সংস্থাগুলি অন্য প্রার্থীর সাথে অপ্রতিরোধ্য ছিল বলে আমাদের বিরুদ্ধে প্রতিকূলতা তৈরি হয়েছে।
শশী থারুর মনোনয়নে সাক্ষরকারী কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদাম্বরম এনডিটিভিকে বলেন, তিরুবনন্তপুরম এমপি সম্পর্কে ‘ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য’ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যিনি পরিবর্তনের পক্ষে ছিলেন। শশী থারুর উল্লেখযোগ্য ভোট পাবেন বলেও জানান কার্তি চিদাম্বরম।
শশী থারুরের বিরুদ্ধে প্রার্থী খোঁজার বিষয়ে পরিবর্তনের জন্য রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট রেস শুরু হওয়ার আগেই বাদ পড়ে গেলে মল্লিকার্জুন খড়গে ছিলেন শেষ মুহূর্তের একজন প্রবেশকারী, কেন্দ্রীয় নেতাদের একাংশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজি হন।
কংগ্রেস কেন্দ্রীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মধুসূদন মিস্ত্রি নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেছেন: নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হয়েছে।
৩৯ বছর আগের চমৎকারের আশায় শশী থারুর
তবু ৩৯ বছর আগে চমৎকারের আশায় থারুর। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর পথেই কি হাঁটতে চলেছেন তিনি? ৩৯ বছর আগে জাতীয় কংগ্রেসে প্রথম সভাপতি নির্বাচনের সময় মহাত্মা গান্ধীর মনোনীত প্রার্থী পি সীতারামাইয়াকে গোহারা হারিয়েছিলেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস।
শশী থারুর জানান, দলের তরুণ ভোটাররা তার সঙ্গেই আছেন। ভোটারদের পরিবর্তনের পক্ষে মত দেওয়ার আহ্বান তার।
জাতীয় কংগ্রেস ১৩৭ বছরের ইতিহাসে ষষ্ঠবারের জন্য সভাপতি পদে নির্বাচন গত সোমবারই অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে দলের সভাপতি পদের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৩৯, ১৯৫০, ১৯৭৭, ১৯৯৭ এবং ২০০০ সালে। পুরো ২২ বছর পর দলের সভাপতি পদের নির্বাচন ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গিয়েছে।
এই নির্বাচনে দীর্ঘ ২৪ বছর পর, গান্ধী পরিবারের বাইরের দলের কোনও নেতা দেশের প্রাচীনতম দলের সভাপতি নির্বাচিত হবেন। এর আগে সীতারাম কেশরী ছিলেন গান্ধী পরিবারের বাইরের দলের সভাপতি।
কংগ্রেসে সভাপতি পদের জন্য শেষবার ভোটাভুটি হয় প্রায় ২২ বছর আগে। ২০০০ সালে সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে ভোটে লড়েছিলেন জিতেন্দ্র প্রসাদ। প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতে যান সোনিয়া। ২০১৭ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের সভাপতি নির্বাচিত হন রাহুল গান্ধী।










