দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছেন প্রবীণ অভিনেতা কাজী উজ্জ্বল। সম্প্রতি ১০০টি হাইব্রিড জাতের নারিকেল গাছ চেয়ে দেওয়া তার ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।
বিষয়টি নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেন এই অভিনেতা, যেখানে কাজী উজ্জ্বল বলেন, “অনেকে মনে করতে পারে আমি খুব গরিব হয়ে গেছি, তাই গাছ কেনার টাকা নেই। বিষয়টা আসলে তা নয়। আমি সরকারের কাছ থেকে অথেনটিক নারিকেল গাছ চেয়েছি।”
তিনি আরও জানান, ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার একটি বড় বাগান রয়েছে। তার ভাষায়, “যশোরের মনিরামপুরে আমার ১২ বিঘার উপরে একটি বাগান আছে। সেখানে পৃথিবীর নানা ধরনের গাছ রয়েছে। আমি শিল্পীর মতো করেই বাগানটি সাজিয়েছি। আমি বাগানের মধ্যেই থাকি। রাতের বেলা মনে হয় গাছগুলো আমাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে আছে।”
ভিডিও বার্তায় কাজী উজ্জ্বল দাবি করেন, ১৯৭৯ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। সেই স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ব্যক্তিগত আর্থিক সহায়তা নয়, বরং ১০০টি হাইব্রিড জাতের নারিকেল গাছের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান।
ভিডিওতে কাজী উজ্জ্বল বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি কোনো শিল্পী হিসেবে আপনাকে কিছু বলছি না। এটা আমার দাবি। আপনার বাবার সঙ্গে ‘৭৯-তে আমি খাল কেটেছি। তখন আমি স্কুলের ছাত্র। সেই দাবি নিয়ে বলছি। আমি বাংলাদেশে প্রায় সব নায়কের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমি আজ এক বছর ধরে অসুস্থ।’
তিনি আরো বলেন, ‘মৃত্যুর পূর্বে আমি কোনো সাহায্য চাই না। আমার মনে একটাই আশা, আমাকে ১০০টি হাইব্রিড জাতের নারিকেল গাছের ব্যবস্থা করে দেবেন। জনগণের জন্য। মরার আগে আমি ১০০টি গাছ লাগাতে চাই। পৃথিবীর কাছে ঋণ শোধ করবো।’
পরবর্তীতে নতুন এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেন, তার উদ্দেশ্য দারিদ্র্য বা ব্যক্তিগত সহায়তা নয়, বরং প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তার এই উদ্যোগ।
অভিনয়ে আসার আগে কাজী উজ্জ্বল শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে আশির দশকে চাকরি ছেড়ে মঞ্চনাটকের মাধ্যমে অভিনয়জগতে প্রবেশ করেন। নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশন নাটকে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর তিনি অসংখ্য নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।







