উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ অবশেষে আজ (সোমবার) জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন। যৌন হয়রানির একটি অভিযোগে লন্ডনের ইকুয়েডরের দূতাবাসে জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হবেন এই অস্ট্রেলিয়ান কম্পিউটার প্রোগ্রামার, প্রকাশক এবং সাংবাদিক। এর প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে জারি থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বজায় থাকবে কিনা সে ব্যপারে সিদ্ধান্ত নেবে সুইডেন।
সুইডিশ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, একজন ইকুয়েডোরিয়ান প্রসিকিউটর সাক্ষাৎকারটি পরিচালনা করবেন। এছাড়াও সুইডেনের চিফ প্রসিকিউটর ইনগ্রিড ইসগ্রেন এবং পুলিশের একজন তদন্ত কর্মকর্তাও তার মাধ্যমে প্রশ্ন করবেন। নতুন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন ইকুয়েডরের সরকার।
সুইডেনে যৌন হয়রানির অভিযোগটি দায়েরের ৬ বছর পর এবং ইকুয়েডোরিয়ান দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণের ৪ বছরও বেশি সময় পরে বিষয়টিতে অগ্রগতি হচ্ছে। প্রথমে ১৭ অক্টোবর সাক্ষাৎকারের কথা থাকলেও পরে অ্যাসেঞ্জের আইনজীবীদের অনুরোধে ১৪ নভেম্বর তা নির্ধারিত হয়।
দূতাবাস থেকে বের হলেই তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে শঙ্কায় অ্যাসাঞ্জ। যেখানে তাকে উইকিলিকসের কার্যক্রমের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এই দূতাবাসে অবস্থানকেও অ্যাসাঞ্জ বিনাবিচারে আটক বলে অভিহিত করেছেন।
ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুইলোম লং বলেন, আমরা খুশি যে সুইডিশ কর্তৃপক্ষ অবশেষে আমাদের লন্ডন দূতাবাসে অ্যাসাঞ্জকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। ২০১২ সালের আগস্টে অ্যাসাঞ্জের আশ্রয় দেয়ার পর থেকেই সুইডিশ প্রসিকিউটরকে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছি।
তবে যৌন হয়রানির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়ে দূতাবাস থেকে বের হলেও জামিনের শর্তভঙ্গের অপরাধে গ্রেপ্তার হতে পারেন অ্যাসাঞ্জ। কারণ সুইডেনের আদালত অ্যাসাঞ্জকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকের রুল জারি করার আগেই সুইডিশ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তিনি লন্ডনে এসেছিলেন। সুইডেন পরে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটিশ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে অ্যাসাঞ্জ। পরে হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন তিনি।
২০১২ সালের আগস্ট থেকে ইকুয়েডোরিয়ান দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা অ্যাসাঞ্জকে পাহারা দিয়ে রেখেছে ইউকে পুলিশ। তিনি যাতে পালাতে না পারেন তা নিশ্চিত করতে এ পর্যন্ত তাদের খরচ হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি।
পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গোপনীয় তথ্য ফাঁস করে ২০১০ সালে আলোড়ন সৃষ্টি করে উইকিলিকস।










