জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ময়মনসিংহ জেলা ছাত্র কল্যাণের উপদেষ্টা পদ পেতে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আল-আমিন ও রিয়ান রাব্বি কিন-কে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা নাহিয়ান বিন হক অনিক শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। হামলার সময় তার সহযোগী হিসেবে ছিল রাশেদ বিন হাশিম। দুইজনেই কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেতের অনুসারী।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্র কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি টিএসসিতে এলে রোববার রাতে মারধরের শিকার হন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন টিএসসির সিরাজের চায়ের দোকানে আল আমিন জুনিয়রদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় অতর্কিত হামলা করে অনিক ও তার সহযোগীরা। সেসময় দোকানের কয়েকটি গ্লাস ও জিনিসপত্র ভাঙচুর করে তারা।
হামলার শিকার রিয়ান রাব্বি কিন বলেন, আমরা রোববার সিনিয়র জুনিয়র সবাই একসাথে বসে চা খাচ্ছিলাম৷ এসময় ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রকল্যাণের সাবেক সভাপতি আল আমিন উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে নাহিয়ান বিন হক অনিক ও রাশেদ বিন হাশিমের নেতৃত্বে আল আমিনকে হামলা করা হয়। তখন আমি আল আমিন ভাইকে সেভ করতে গিয়ে আমি নিজেও আহত হয়েছি, আমি এখনও ট্রিটমেন্ট নিচ্ছি। ওরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসে। ওরা রানিং ছাত্রদল করে ওরাই সব। এটাই ওদের কথা। সব ওদের।
জানা যায়, ছাত্রদল নেতা অনিক নেত্রকোনা জেলার হয়ে থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবে ময়মনসিংহ জেলার উপদেষ্টা হতে চান। তবে এতে বিরোধিতা করেন ময়মনসিংহ জেলা ছাত্র কল্যাণের অন্য শিক্ষার্থীরা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করে অনিক ও তার সহযোগীরা। মারধরের শিকার আহত ভুক্তভোগী আল-আমিন একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী আল-আমিন বলেন, আমি কোনো রাজনীতিতে যুক্ত নয়। নাহিয়ান বিন হক অনিক অন্য জেলার হয়েও আমাদের জেলা ছাত্র কল্যাণে প্রভাব খাটাতে চায়। তার ইচ্ছেমতো নেতৃত্ব দিতে চায়। এ ব্যাপারে আমরা তার বিরোধিতা করায় আমার উপর অতর্কিতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে।
তবে এই মারধরের ঘটনা অস্বীকার করেন অভিযুক্ত নাহিয়ান বিন হক অনিক। তিনি বলেন, আমি আল-আমিন নামের কোনো ছেলেকে চিনি না। ঐটা যেটা হয়েছে সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এটা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে ছাত্রলীগের একটা বাকবিতন্ডা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রোববার সন্ধ্যায় জবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হানিফ আহমেদ তার কিছু অনুসারী নিয়ে বসে বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছিল। এবং তারা ছাত্রকল্যাণের নামে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছিল। এজন্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের প্রটেস্ট করে তাদেরকে সেখান থেকে বের করে দেয়। আমরা তাদেরকে সম্মানের সাথে বের করে দেয়ার জন্য যা করার তাই করছি। এর বাইরে কিছুই হয় নাই।
দোকানে ভাঙচুরের শিকার দোকানী সিরাজ বলেন, ওরা হঠাৎ করে এসেই একজনকে মারা শুরু করে। অনেক সিনিয়র, কাউকেই চিনি না। কয়েকটি কাপ ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভেঙে ফেলেছে।
অভিযোগের বিষয়ে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত বলেন, ওই দিনের ঘটনা আমি শুনেছি৷ মারামারির কিছু হয় নাই। এমন কিছু শুনি নাই। আল আমিনের সাথে মিউচুয়াল করে দেয়া হয়েছে। আর আমার ছেলেরা ক্যাম্পাসে কেউ মারামারি করে না।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসলাম বলেন, আমি এবিষয়ে জানি না। ক্যাম্পাস থেকে রোববার দ্রুত চলে এসেছিলাম। ঘটনা জেনে আপনাকে জানাচ্ছি।







