বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়মে ফাউল ধরে শাস্তি পাওয়া খেলোয়াড় হলেন সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এম্বোলো। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি এ আইনে পড়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন, যে কারণে দুই হলুদে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
রোববার ম্যাচের ৭২তম মিনিটে মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার মাধ্যমে এম্বোলো ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’র আওতায় শাস্তি পান। ঘটনার সূত্রপাত যখন এম্বোলোকে ফাউল করার জন্য আর্জেন্টিনার লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে একটি হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ৭১ মিনিটে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি সেই সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনা করেন। পরে মাঠ রেফারি ভিএআরের সাহায্য নিয়ে পারেদেসের ফাউলটি তুলে এম্বোলোকেই ফাউলের অপরাধে কার্ড দেখান। তাতে সুইস ফরোয়ার্ড হলুদ কার্ড দেখেন, তিনি ৪৪ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ডটি দেখেছিলেন। দুটি হলুদ হয়ে যাওয়ায় ফলে তার জন্য কার্ড লালে পরিণত হয়।
পারেদেসের সাথে ২৯ বর্ষী সুইস খেলোয়াড়ের কোন সংঘর্ষ না লাগা সত্ত্বেও তিনি ডাইভ দিয়েছিলেন, এজন্য তাকে ফাউলের অপরাধে কার্ড দেখান রেফারি। মাঠের রেফারি প্রথমে যে ফাউলটি দেখতে পাননি। ভিএআর রেফারি দল তার নজরে এনে সেটি পর্যালোচনার জন্য আহ্বান জানায়।
সুইসদের বেঞ্চের সদস্যরা রেফারির কাছে প্রতিবাদ জানালে কোন লাভ হয়নি। তারা সিদ্ধান্তটিতে অসন্তুষ্ট ছিলেন। তবে ম্যাচ শেষে বিশেষজ্ঞ ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা জানান, সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।
ফুটবলের আইনকানুন পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’কে ম্যাচের জন্য একটি ত্রুটি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যা ম্যাচে ভুল খেলোয়াড়ের উপর প্রয়োগ হওয়ার কারণে খেলার মোড়কে ত্রুটিপূর্ণভাবে ঘুরিয়ে দেয়।
আইএফএবি জানায়, ভুলবশত কোন খেলোয়াড়কে শাস্তি দেয়া হলে বা রেফারি হলুদ বা লাল কার্ড দেখালে যদি পরবর্তীতে ভুলটি ধরা পড়ে, তাহলে সেখানে ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ আইন প্রয়োগ হবে। যার মাধ্যমে মূল ভুলটি যে খেলোয়াড়ের দ্বারা সংগটিত হয়েছিল, তাকে পরে শাস্তির আওতায় আনার সুযোগ মেলে। পুরো বিষয়টি ভিএআর নিয়ম অনুযায়ী ঘটে, ভুল পরিচয়ের ঘটনাগুলোও ভিএআর টিমের নজরে আসে এবং তারা সেটি পর্যালোচনা করে শাস্তির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করেন।







