রাজধানীর তেজগাঁও থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় প্রথম আলোর সাংবাদিক শামসুজ্জামান আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। রোববার ৯ এপ্রিল তিনি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শেখ সাদী তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে মামলার ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন দেন।
শামসুজ্জামানের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার বিষয়টি জানিয়েছেন।
গত ২৯ মার্চ দুপুরে সৈয়দ মো. গোলাম কিবরিয়া (৩৬) নামে এক ব্যক্তি তেজগাঁও থানায় বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেন। মামলার বিবরণীতে কিবরিয়া নিজেকে রাজধানীর কল্যাণপুরের বাসিন্দা বলে উল্লেখ করেছেন। তার স্থানীয় ঠিকানা নাটোরের সদর উপজেলায়।
এর আগে গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর রমনা মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক শামসুজ্জামানকে ২০ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূরের আদালত।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি পরিচয়ে সাভারের বাসা থেকে ‘তুলে নেওয়ার’ ৩০ ঘণ্টা পর শামসুজ্জামানকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়।
বুধবার ভোররাতে ‘তুলে নেওয়ার’ পর শামসের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। এরপর বুধবার মধ্যরাতে তার বিরুদ্ধে একই আইনে রমনা থানায় আরেকটি মামলা হয়।
দুই মামলাতেই ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা হয়েছে। প্রথমটি তেজগাঁও থানায়, দ্বিতীয়টি রমনা থানায়। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এ মামলার প্রধান আসামি।
২৬ মার্চ প্রথম আলো অনলাইনের একটি প্রতিবেদন ফেসবুকে প্রকাশের সময় দিনমজুর জাকির হোসেনের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি ‘কার্ড’ তৈরি করা হয়। সেখানে উদ্ধৃতিদাতা হিসেবে দিনমজুর জাকির হোসেনের নাম থাকলেও ভুল করে ছবি দেওয়া হয় একটি শিশুর। পোস্ট দেওয়ার ১৭ মিনিটের মাথায় প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের অসংগতি নজরে আসে এবং দ্রুত তা প্রত্যাহার করা হয়।
পাশাপাশি প্রতিবেদন সংশোধন করে সংশোধনীর বিষয়টি উল্লেখসহ পরে আবার অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনের কোথাও বলা হয়নি যে উক্তিটি ওই শিশুর; বরং স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে, উক্তিটি দিনমজুর জাকির হোসেনের।








