ক্যাম্পাস লাইভ২৪ ডট কম-এর প্রধান সম্পাদক আজহার মাহমুদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।
রোববার ১৪ মে বিকাল ৩ টায় রাজধানীর ধানমণ্ডির ইবনে সীনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। রোববার বাদ মাগরিব রাজধানীর শাহীনবাগে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বাদ এশা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
আজহার মাহমুদ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন—ক্র্যাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি—ডিআরইউয়ের স্থায়ী সদস্য ছিলেন।
গত এক সপ্তাহ আগে অসুস্থতা নিয়ে হাসাপাতালে ভর্তি হন আজহার। জন্ডিস এবং লিভার জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। সম্প্রতি অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।
আজহার মাহমুদ দৈনিক সমকাল, দৈনিক মানবজমিন ও বাংলাদেশ প্রতিদিন, ভয়েস অব আমেরিকা, বৈশাখী টিভি ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে অপরাধ বিষয়ক প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আজহার মাহমুদের পৈত্রিক জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া হলেও তিনি ঢাকাতেই স্থায়ীভাবে থাকতেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও স্ত্রী রেখে গেছেন। তার স্ত্রী একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।
সাংবাদিক আজহার মাহমুদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার সহকর্মীদের মধ্যে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ছবি শেয়ার করে শোক জানাচ্ছেন।
আজহার মাহমুদের মৃত্যুতে অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) নেতবৃন্দ গভীর শোক জানিয়েছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মরহুমের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন।
২০১৯ সালে সাংবাদিক আজহার মাহমুদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর হারুন-উর রশীদ।
২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আজহার মাহমুদ ওই মামলায় হাজিরা দিতে রংপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালত তাকে জেল-হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরদিন ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক আজহার মাহমুদকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জোর দাবি জানান।








