দুই বছর আগে যখন চ্যানেল আই অনলাইন যাত্রা শুরু করে তখন যে লক্ষ্য ছিল এখনো আমাদের লক্ষ্য সেটাই: সাংবাদিকতা। এর আগে-পরে আমরা কোন বিশেষণ বা অন্য কোন শব্দ যোগ করতে চাইনি বা চাই না। কারণ সাংবাদিকতা শব্দটা নিজেই নিজেকে ব্যাখ্যা করে, নিজের কর্মপরিধি এবং ব্যাপ্তিও ঠিক করে দেয়, কিংবা জানায়। ২০ এপ্রিল তৃতীয় বছরে পদার্পণের এ সময়ে আমরা যদি গত দুটি বছরের একটা পর্যালোচনা করি তাহলে নির্দ্বিধায় বলতে পারি, চ্যানেল আই এ সময়ে শুধু সাংবাদিকতার চেষ্টাই করে গেছে। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই– সেটা যে খুব সহজ ছিল এমন নয়। বিশেষ করে, অনলাইনে এফএনএফ (ফেইক নিউজ ফ্যাক্টরি) এবং এমনকি প্রতিষ্ঠিত সংবাদ মাধ্যমগুলোর সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা ও সুড়সুড়ির এ সময়ে টিকে থাকাটা একটু কঠিনই বলতে হয়। সংবাদ সজ্ঞানতার অভাব যখন সর্বব্যাপী, কোনটা সংবাদ এবং কোনটা সংবাদ নয় নেটিজেনদের বড় এক অংশের কাছে যখন সেটা পরিস্কার নয় তখন শুধু চ্যানেল আই অনলাইন নয়, শুদ্ধ সাংবাদিকতার চর্চা করা যেকোন সংবাদ মাধ্যমের জন্যই সেটা বড় এক চ্যালেঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পয়সা খরচ করে যখন সহজেই সংবাদের নামে অসংবাদও পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় তখন চ্যালেঞ্জটা আরো বড় হয়ে যায়। আশার দিক হচ্ছে, আমাদের পাঠকগোষ্ঠীর মধ্যে সংবাদ সজ্ঞানতা বাড়ছে এবং অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের নামে যেকোন কিছু সংবাদ হিসেবে বাজারজাত করার যে ঝড় শুরু হয়েছিল সেই প্রাথমিক ঝড়টা সামাল দেওয়া গেছে। আমরা নিজেরাও সংবাদ সজ্ঞানতা নিয়ে কাজ করছি এবং অন্য সংবাদ মাধ্যমগুলোরও এ বিষয়ে যথেষ্ট কাজের সুযোগ রয়েছে বলে আমরা মনে করি। সংবাদ মাধ্যম— সেটা টেলিভিশন বা রেডিও হোক, কিংবা পত্রিকা অথবা অনলাইন– আমরা মনে করি সবার আগে নিজের দায়িত্বশীলতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রেরও যে একেবারে কিছু করার নেই তাও নয়। আমরা মোটেই গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের পক্ষে নই এবং এরকম যেকোন চেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা অতীতে যেমন সোচ্চার ছিলাম- এখনও আছি- তেমনি ভবিষ্যতেও থাকব, তারপরও আমরা বলতে চাই: অনলাইনের নামে ফেইক নিউজ ফ্যাক্টরির অসত্য, অর্ধসত্য এবং বিকৃত তথ্য প্রচার বন্ধে কোন না কোন ব্যবস্থা থাকতে হবে। এসব কিছুর পরও আমরা পাঠকগোষ্ঠীর উপরই সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখতে চাই। অতীতে তারা যেমন আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা কিংবা সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা করা এক সময়ের বড় পত্রিকাকেও প্রত্যাখ্যান করেছে, অনলাইনের ক্ষেত্রেও তাই ঘটছে এবং ঘটবে। শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকতা করা গণমাধ্যমই টিকে থাকে, অনলাইনেও তাই হবে। সেই সাংবাদিকতায় দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আমরা আমাদের সকল পাঠক, দর্শক, শ্রোতা ও শুভানুধ্যায়ীকে অভিনন্দন জানাই, আগামী দিনগুলোতে আপনাদের আরো বেশি সমর্থন প্রত্যাশা করি।







