এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
নিজ বাসার বেলকনি থেকে পড়ে মারা গেছেন ভারতের সাবেক পেসার ডেভিড জনসন। ৫২ বর্ষী ক্রিকেটার এমন মৃত্যু দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা সে বিষয়ে এখনও কিছু জানা যায়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জনসনের মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছে। বলছে, বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুতে নিজ বাসার চতুর্থ তলার বেলকনি থেকে পড়ে যান জনসন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
স্বজন ও প্রতিবেশিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন জনসন। নিয়মিতই হাসপাতালে যেতে হতো তার। গত সপ্তাহেও তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কিছুটা সুস্থ হলে তিন দিন আগে বাড়ি ফেরেন।
বাড়ির কাছে একটি ক্রিকেট একাডেমি চালাতেন জনসন, তবে আর্থিকভাবে খুব একটা সচ্ছল ছিলেন না। সবকিছু মিলিয়েই ভেঙে পড়েছিলেন জনসন। এ কারণে বেলকনি থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন সাবেক পেসার।
অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে তারা।
দীর্ঘদিন রাজ্য দল কর্ণাটকের হয়ে একসঙ্গে খেলছেন অনিল কুম্বলে আর জনসন। সাবেক সতীর্থের মৃত্যুতে শোকাহত তিনিও। বলেছেন, ‘আমার সতীর্থ ডেভিড জনসনের মৃত্যুতে শোকাহত। ওর পরিবারকে সমবেদনা জানাই। খুব দ্রুতই চলে গেলে বেনি।’
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব জয় শাহ জনসনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমাদের সাবেক ফাস্ট বোলার ডেভিড জনসনের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা। খেলায় তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
ভারতের জাতীয় দলে খুব একটা খেলার সুযোগ হয়নি জনসনের। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে কেবল দুটি টেস্ট খেলেছেন এই বোলার। ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় দারুণ পারফরম্যান্স করে ১৯৯৬ সালে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছিলেন কর্নাটকের ফাস্ট বোলার। ১৯৯৫-৯৬ সালে রঞ্জি ট্রফিতে কেরালার বিপক্ষে ১৫২ রানে ১০ উইকেট নিয়ে নির্বাচকদের নজর কাড়েন।
১৯৯৬ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দিল্লি টেস্টে অভিষেক হয় জনসনের। প্রথম ইনিংসে উইকেট না পেলেও দ্বিতীয় ইনিংসে আউট করেন মাইকেল স্ল্যাটারকে। একই বছর ডিসেম্বরে ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলেন জনসন। ওই টেস্টের প্রথম ইনিংসে নেন ২ উইকেট।
প্রথম শ্রেণীর ক্যারিয়ারে ৩৯ ম্যাচে ১২৫ উইকেট নেন জনসন। এছাড়া লিস্ট এ গেমে ৩৩ ম্যাচে ৪১ উইকেট রয়েছে তার ঝুলিতে।






