তিন দফা দাবিতে পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুমতি না মেলায় আজকের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ স্থগিত করেছে নিবন্ধন হারানো দল জামায়াতে ইসলামী।
তবে আগামী ১০ জুন শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইটে দুপুর ২টায় নতুন করে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
সোমবার ৫ জুন এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও প্রচার সেক্রেটারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
তিনি বলেন, দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐকমত্য পোষণ করে এ দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন করে যাচ্ছে। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
বিশেষ করে ২০১৪ ও ২০১৮ সালে একতরফা ও নিশি রাতের ভোটের পর, আওয়ামীলীগের অধীনে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে বলে জনগণ বিশ্বাস করে না। এখন পর্যন্ত সরকার জনগণের দাবি বাস্তবায়নের পরিবর্তে হুমকি-ধামকি, ভয়-ভীতি, গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা দায়ের ও নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে আটক রেখে আবারো একতরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন কারাগারে আটক রয়েছেন, নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি মাওলানা আনম শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরীসহ অসংখ্য নেতাকর্মী ও আলেম-উলামা। আমরা অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি জানাই।
তিনি বলেন, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিজেরাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর মুক্তি না দিয়ে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে জেলখানায় আটকে রাখা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনী, অসাংবিধানিক ও মানবাধিকার পরিপন্থী। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে আটক নেতৃবৃন্দের মুক্তির পরিবর্তে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা ও বন্দি থাকাবস্থায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাধীনভাবে চলাফেরা, মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ মিছিল-সভা সমাবেশ করার অধিকার রাখা হয়েছে। সংবিধান স্বীকৃত এই অধিকার বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। সংবিধান হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ আইন। যেহেতু সংবিধানে মিটিং-মিছিল করার কথা বলা হয়েছে, তাই মিটিং-মিছিলে বাধা দেয়ার ক্ষমতা কারো নেই। অথচ গত ১৫ বছর যাবত রাজপথে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি পুলিশের নিকট শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ বাস্তবায়নে সহযোগিতা ও অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
২৮ মে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিকট অনলাইনে ৫ জুন সমাবেশের জন্য আবেদন করে। ২৯ মে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ৪ জন আইনজীবীর একটি প্রতিনিধি দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন, নেতৃবৃন্দের মুক্তি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ৫ জুন সমাবেশ করার আবেদন নিয়ে ডিএমপি কমিশনারের নিকট গেলে কমিশনার কার্যালয়ের গেট থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। মত প্রকাশ ও সভা-সমাবেশে বাধা দেয়ার এটি একটি নিকৃষ্ট নজির হয়ে থাকবে।
এর আগে ২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর ও চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি দুই দফা সমাবেশ করার জন্য সহযোগিতা চেয়ে ডিএমপিতে আবেদন করা হয়। প্রশাসন কোনটার ক্ষেত্রেই সহযোগিতা করেনি। বরং প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষোভ করলে পুলিশ সেখানে চড়াও হয় এবং অসংখ্য নেতাকর্মীকে হামলা করে আহত ও গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়।
মতিউর রহমান আকন্দ বলেন: জামায়াতকে সভা সমাবেশ করতে না দিয়ে কোটি কোটি মানুষের অধিকার বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে।জামায়াতে ইসলামী আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের বিশ্বাস ছিল, সরকার শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দিবে। কিন্তু সরকার এবারও অনুমতি না দিয়ে সংবিধান ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন: রাজধানীতে কী শুধু ছুটির দিনে সভা সমাবেশ হয়? অন্যান্য রাজনৈতিক দল কর্ম দিবসে সভা সমাবেশ করতে পারলে জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে দ্বিমুখী আচরণ কেন? আমরা পুলিশ প্রশাসনের দ্বিমুখি আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, রাজনৈতিক সভা সমাবেশে বাধা দেয়া পুলিশের কাজ নয়। গনতান্ত্রিক কর্মকান্ডে বাধা দিয়ে আপনারা নিজেদের গনতন্ত্র বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করবেন না।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) হারুন অর রশীদের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন: জনগণের অধিকার আদায়ে সুনির্দিষ্ট ৩টি দাবিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন, নেতৃবৃন্দের মুক্তি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবীতে এই কর্মসূচি পালন করতে চায় জনগণের দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গোয়েন্দা প্রধান এখানে কীসের অসৎ উদ্দেশ্য খুঁজে পেয়েছেন? রাষ্ট্রের সেবক হয়ে অসত্য কাল্পনিক কথা বলে রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া সম্পূর্ন বেআইনী।
তিনি স্থগিত কর্মসূচির নতুন করে বাস্তবায়নের তারিখ ঘোষণা করে বলেন, আজকের কর্মসূচি স্থগিত। আগামী ১০ জুন, শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইটে দুপুর ২ টায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করছি।







