দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) নির্বাচন আগামী ৮ মে। এই নির্বাচনে এবার ১১ পদে প্রার্থী ৩৩ জন।
‘টিম সাকসেস’ থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন জেনারেল ক্যাটাগরির প্রার্থী ইমরান হোসেন, যিনি ইওয়াইহোস্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার সাক্ষাৎকারের প্রথম অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন: কর অব্যাহতির বর্তমান পরিস্থিতি ও এ বিষয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?
ইমরান হোসেন: আসন্ন জুনে কর অব্যাহতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই নীতিমালার অধীনে, অনেক ছোট ও বড় কোম্পানি কর অব্যাহতি পেয়েছে, যা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি এই শিল্পে উন্নতি সাধনে সহায়ক হয়েছে। বেসিস সদস্যদের একটি প্রধান দাবি হলো ট্যাক্স অব্যাহতির সময় বাড়ানোর। আমরা চাই, সরকার যেন ২০৪১ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে এই অব্যাহতি বজায় রাখে।
প্রশ্ন: আইটি শিল্পে কর আরোপের ব্যাপারে আপনার মতামত কী?
ইমরান হোসেন: আমাদের আইটি শিল্প এখনও বিকাশমান। যদি সরকার এই শিল্পকে আরও সমর্থন না দেয়, তাহলে অনেক স্টার্ট-আপ ও ছোট কোম্পানি ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়বে। একেবারে কর আরোপ না করে, এটি ধাপে ধাপে বাড়ানোর পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত। আবার অন্য ইন্ডাস্ট্রির লোকজনও এই আইসিটি খাতের কর অব্যাহতির সুযোগ নিচ্ছে। তাই কর অব্যাহতি স্ল্যাব ভিত্তিক হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি।
নতুন কেউ এই ইন্ডাস্ট্রির সাথে যুক্ত হলে প্রথম ৫ বছর তাকে করের আওতায় না আনা সমীচীন। তাহলে স্টার্ট-আপ গ্রোথটা ভালো হবে আমাদের দেশে। আবার বাৎসরিক রেভিনিউ ১০ কোটি টাকার বেশি হলে তাদেরকে ৫ শতাংশ, ২০ কোটি টাকার বেশি হলে ১০ শতাংশ- এভাবে স্ল্যাবভিত্তিক করলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তদের জন্য সমস্যা তৈরি করবে না আবার বৃহৎ উদ্যোক্তাদের জন্য এটা বোঝা হয়ে যাবে না। তবে আমরা আইটি ব্যবসায়ীরা কর দিতে চাই না- এটা ভুল। এই শিল্পের এখনও বিকাশ দরকার এবং ধাপে ধাপে কর আরোপ করা যেতে পারে।
প্রশ্ন: ট্যাক্স অব্যাহতির বিষয়ে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কী?
ইমরান হোসেন: অবশ্যই, এই বছর বাজেট ঘোষণায় কর অব্যাহতির নীতি গুরুত্ব পাবে, তাই আমাদের কাজের সময় সীমিত। আমাদের লক্ষ্য কর অব্যাহতির মেয়াদ বাড়ানো, যা ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে। নির্বাচিত হলে সরকারের সাথে দ্রুত সংলাপ আয়োজন করব। বর্তমান সরকার প্রযুক্তি-বান্ধব। আইএমএফ চাপ প্রয়োগ করছে, কর অব্যাহতি উঠিয়ে নিতে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আমাদের প্রফিট ৫ হাজার কোটি টাকা কিন্তু টার্নওভার আড়াই হাজার কোটির মধ্যে।

আমরা আহ্বান জানাচ্ছি সঠিক অংক নির্ধারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে কাজ করতে। কর আরোপের বিষয়ে ইন্ডাস্ট্রির অবদান এবং দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব বিবেচনা করা প্রয়োজন। কর অব্যাহতি শুধু সফটওয়্যার খাত সংশ্লিষ্ট আড়াই হাজার কোম্পানির জন্য নয়, সমগ্র দেশের এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের জন্য জরুরি। এটি অপসারণ করলে রপ্তানির মাধ্যমে আয়ের সমস্যা হবে। আমাদের পরিকল্পনা হলো সরকারের সাথে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে এই সময়সীমা বাড়ানো। আমরা চাই, ট্যাক্স অব্যাহতি ২০৪১ সাল পর্যন্ত বজায় থাকুক, যাতে আমাদের শিল্পের আরো বিকাশ ঘটতে পারে।
প্রশ্ন: আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের প্রতি আপনার কী বার্তা?
ইমরান হোসেন: আমি আশা করি আমাদের শিল্পের স্বার্থে ভোটাররা সচেতনভাবে ভোট দেবেন। আপনাদের সক্রিয় সমর্থন ও অংশগ্রহণই পারে এই খাতের উন্নয়ন ও বৈশ্বিক মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত করতে। সবাইকে আসন্ন বেসিস নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে উৎসাহিত করছি। আপনার সমর্থন ও দোয়া কামনা করছি আমাদের প্যানেল ‘টিম সাকসেস’ ও আমার জন্য।








