এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার কথাও জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
আল জাজিরা জানিয়েছে, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল সালেম ও আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অবৈধভাবে অতিক্রমের চেষ্টা করার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কারগান শহরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যেখানে অন্তত দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইরান দাবি করেছে, গত এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র বারবার তা লঙ্ঘন করেছে। এ প্রেক্ষাপটে নিজেদের প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।
উল্লেখ্য, গত সোমবার হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ইরান সেটি ভূপাতিত করেছে বলে অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা চলমান রয়েছে।
এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে তারা অগ্রগতির কাছাকাছি অবস্থানে ছিলেন। তবে ইরান আলোচনায় অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ করে দ্রুত সমঝোতায় না এলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।







