চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ দেখেই সাদে মজেছিলেন জেরেমি চুয়া

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ প্রযোজনা করেছেন সিঙ্গাপুরের প্রযোজক জেরেমি চুয়া। এই সিনেমাটি প্রসঙ্গে কথা বললেন চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে…

বিশ্বের প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব বলা হয় ‘কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’কে। আর এই উৎসবে প্রথমবার অফিশিয়াল সিলেকশনে (আনসার্টেন রিগার্ড- ভিন্ন দৃষ্টিকোণ) স্থান করে নেয়া বাংলাদেশের তরুণ নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ এর কথা এখন কারো অজানা নয়। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছেন সিঙ্গাপুরের প্রযোজক জেরেমি চুয়া।

সিনেমাটি কানে নির্বাচিত হওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার পরেই চ্যানেল আই অনলাইনের তরফে এই সিনেমার প্রযোজক জেরেমি চুয়ার সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি লিখিত প্রশ্ন ইমেইল করতে বলেন। ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছাড়াও চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন রাখা হয়। মাঝখানে এই প্রযোজক অবশ্য জানিয়েছেন, প্রশ্নের উত্তর দিতে একটু বিলম্ব হতে পারে!

প্রশ্ন পাঠানোর প্রায় দুই সপ্তাহ পর মঙ্গলবার (২২ জুন) রাতে জেরেমি দুঃখপ্রকাশ করে ফিরতি ইমেইল করেন। জানান, সব প্রশ্নের উত্তর এই মুহূর্তে দিতে পারছেন না। কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবিটি পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলেন, আর এখন উৎসবে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার প্রাকপ্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত।

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ প্রসঙ্গে প্রযোজক জেরেমি চুয়া যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন, তা থাকলো চ্যানেল আই অনলাইনের পাঠকদের জন্য-

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ এই সিনেমাটির সাথে কীভাবে, কেন এবং কী ভেবে যুক্ত হলেন?
আমি মনে করি পৃথিবীর নানা জায়গার মানুষের বাংলাদেশের স্বাধীন ধারার ছবি বা আর্টহাউসের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ নেই তেমন। তবে সিঙ্গাপুরে ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ দেখার পর আমি বুঝতে পেরেছি, বাংলাদেশে অনেক মেধা আছে। নির্মাণ, সিনেমাটোগ্রাফি, অভিনয়, এডিটিং, স্টাইল, সব কিছুতেই ছিল নতুনত্ব। তাই ২০১৬ সালের শেষের দিকে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের সঙ্গে কাজ শুরু নিয়ে আমি এক্সাইটেড ছিলাম। প্রথম ছবি দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম,মানুষের জীবনের অন্ধকার দিকের সৌন্দর্য এবং নৃশংসতা দু’টোই তিনি ভালো বোঝেন। তাই তার গল্প হয় সংক্ষিপ্ত কিন্তু জটিল। কারণ চরিত্রের অনেকগুলো স্তর থাকে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সাদের প্রথম সিনেমা ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’র পোস্টার

বাংলাদেশের প্রথম কোনো সিনেমা কানে অফিশিয়ালি নির্বাচিত হলো। এটা এখানকার সিনেমার জন্য মাইলফলক। ফলে স্বভাবতই সিনেমাটি নিয়ে এখানে হইচই হচ্ছে। ছবির প্রযোজক আপনি, এবং আপনি দূর দেশের। সেখানের সিনেমার মানুষ থেকে কেমন অ্যাপ্রিসিয়েশন পাচ্ছেন?
বাংলাদেশের মানুষ ছবিটির সাথে থাকায় এবং ভালো খবর শুনে খুশি হওয়ায় আমি আনন্দিত। সব ক্রেডিট সাদের, অসাধারণ অভিনয়শিল্পীদের এবং নিবেদিতপ্রাণ ক্রুদের।

প্রযোজক জেরেমি চুয়া…

বিজ্ঞাপন

এই সিনেমাটির গল্প, নাকি নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের কাজের ধরন আপনাকে প্রযোজনায় বেশী আগ্রহী করে তুলেছে?
এটা বর্ণনা করা কঠিন। সাদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা স্পেশাল। সিনেমার ভাষায় তার দারুণ দক্ষতা, দৃষ্টিও দারুণ, সাহসী হৃদয়ের মানুষ। তিনি জানেন কীভাবে মৌলিকতা ও আবেগ মিশিয়ে গল্প তৈরি করতে হয়।

পরিচালক সাদ খুব নিভৃতচারী একজন মানুষ। প্রযোজকের দৃষ্টি দিয়ে নির্মাতা সাদ নিয়ে আপনার কী পর্যবেক্ষণ?
যে কোনো সিনেমা তৈরি করাটা চ্যালেঞ্জিং। অনেক সৃষ্টিশীলতা, সময়, দায়বদ্ধতা, অর্থের প্রয়োজন হয়। অনেকেই হাল ছেড়ে দেন। আর তাই আমি মনে করি ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ কান-এ ‘আনসার্টেন রিগার্ড’ বিভাগে নির্বাচিত হওয়ার এই বিষয়টি প্রমাণ করেছে যে, সাদ একজন প্রকৃত শিল্পী।

যতদূর জানি, ২০২০ সালেই কানের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলো ছবিটি। কিন্তু আপনারা এই ছবিটি পরের বছরের জন্য অপেক্ষমান রাখলেন। পুরো প্রক্রিয়াটা কীভাবে সম্ভব হলো?
আমরা ঠিক করেছি কান ২০২১ পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। কারণ উৎসবে উপস্থিত দর্শক, সংবাদমাধ্যম, দর্শকের সরাসরি প্রতিক্রিয়া এসমস্তকিছু আমরা দেখতে চাইছিলাম সরাসরি। এ সুযোগ কে মিস করতে চায় বলুন! আমাদের নির্বাহী প্রযোজকরা এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ এর প্রিমিয়ার এক বছর পেছাতে রাজি হয়েছেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা !

কানে জায়গা করে নেয়ার পর বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা কী আপনাদের? এটা কি কোনো ওটিটি প্লাটফর্মে আসার সম্ভাবনা রয়েছে?

ছবিটি অবশ্যই বাংলাদেশে মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা আছে। তাই সবাইকে আমাদের সাথেই থাকার অনুরোধ করছি।