রেজাউল করিম খোকন: চ্যানেল আইয়ের তুমুল জনপ্রিয়, দর্শকনন্দিত একটি অনুষ্ঠান ‘মেট্রোসেম টু দ্য পয়েন্ট’। সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে বিজ্ঞ, প্রাণবন্ত, মনোজ্ঞ আলোচনার এই অনুষ্ঠানটির প্রতিটি পর্বই দর্শক দারুন আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্টজনদের যুক্তিতর্ক, বুদ্ধিদীপ্ত মন্তব্য এবং আলাপ তাদের মনে ভিন্ন চিন্তার উদ্রেক করে।
জাহিদ নেওয়াজ খানের পরিকল্পনায়, রাজু আলীমের প্রযোজনায় এবং সোমা ইসলামের উপস্থাপনায় ‘মেট্রোসেম টু দ্য পয়েন্ট’ অনুষ্ঠানের সাম্প্রতিক একটি পর্বে উপস্থিত হয়েছিলেন দেশের দুই বিশিষ্ট সাবেক ব্যবসায়ী নেতা আবদুল মাতলুব আহমাদ এবং আবদুল আউয়াল মিন্টু। তারা উভয়েই একসময় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশের যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করার ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী মূল্যে বাস, ট্রাক, মিনিট্রাক, কার প্রভৃতি সরবরাহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সফলভাবে করে যাচ্ছে আবদুল মাতলুব আহমাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। এ ক্ষেত্রে তাকে পথিকৃৎ বলা যায়। অপরদিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী হিসেবে আবদুল আউয়াল মিন্টুর পরিচিতি ছিল সর্বজনবিদিত। বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে দারুন সক্রিয়। উচ্চশিক্ষিত, বিজ্ঞ, মেধাবী এই ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
চ্যানেল আই ‘মেট্রোসেম ট্যু দ্য পয়েন্ট’ অনুষ্ঠানে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সমস্যা, সংকট এবং সমাধান বিষয়ে দেশের দুই সাবেক ব্যবসায়ী নেতার মনোজ্ঞ, প্রাণবন্ত, অন্তরঙ্গ, আলোচনা নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেন রেজাউল করিম খোকন।
‘মেট্রোসেম ট্যু দ্য পয়েন্ট’ অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থাপক সোমা ইসলাম বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অঙ্গনের বাস্তব অবস্থা আলোকপাত করে আলোচনার সূচনা করেন। সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থানে থাকার কারণে ক্ষমতাসীন দলের সাথে বিরোধী দলের বিরাট দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট ক্রমেই ঘণীভূত হচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে বিভেদ, বিরোধ, অবিশ্বাস, নীতির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান জনমনে অনিশ্চয়তা, আশঙ্কা এবং অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দল ঘন ঘন আসছেন। তাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুস্থ সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির বদলে এক ধরনের অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলছে। সমস্যা-সংকট নিরসনের তেমন সম্ভাবনা এখনও দেখা যাচ্ছে না। আগামী দিনগুলোতে কী ঘটতে চলেছে, বাংলাদেশের রাজনীতি কোন পথে যাচ্ছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কী আদৌ যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে, বিবাবদমান দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি এবং সংকট নিরসনের কোনো উপায় কী উদ্ভাবিত হবে, ইত্যকার প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে।
‘টু দ্য পয়েন্ট’ অনুষ্ঠানের আলোচ্য পর্বটির নাম ছিল ‘অর্থনীতি অনর্থনীতি’। আলোচক বিশিষ্ট দুই অতিথি যেহেতু ব্যবসা-বাণিজ্য অঙ্গনের মানুষ, সেহেতু বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের অর্থনীতির অবস্থার কথা উপস্থাপক জানতে চান তাদের কাছে।
আবদুল মাতলুব আহমাদ সমকালীন বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দেশের অর্থনীতি কোনোভাবেই খারাপ অবস্থায় নেই বর্তমানে। রাস্তায় সারি সারি গাড়ির আধিক্য, কাজকর্ম ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সবার অবিরাম ছুটে চলা এবং ব্যস্ততা প্রমাণ করে দেশের অর্থনীতির সচলতা। গতিশীলতাই প্রমাণ করে যে কোনো জিনিসের সক্ষমতা এবং সুস্বাস্থ্যকর অবস্থা। অর্থনীতির মধ্যে নানা টানাপোড়েন থাকলেও সবকিছু মিলিয়ে হতাশ হওয়ার মতো অবস্থায় নেই তা।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ী বলুন, সাধারণ মানুষ বলুন। সবাই বেশ উদ্যমী, কর্মঠ, উদ্যোগী। চলার পথে নানা বাধা প্রতিকুলতা অতিক্রম করে একসময় তারা এগিয়ে যায়। কোভিড এবং রুশ ইউক্রেন যুদ্ধের মন্দ প্রভাব কাটিয়ে তারা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে ঠিকই। শ্রীলঙ্কার দিকে তাকান। সেখানকার অবস্থা আগের পর্যায়ে নেই। তারা ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যত নিয়ে আমি হতাশ নই মোটেও। তবে এ জন্য দেশের অভ্যন্তরে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে অবশ্যই।
এই সময়ে দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, দেশের অর্থনীতি কোনভাবেই ভালো নেই। আমদানি রপ্তানি কমেছে দিনে দিনে, নতুন বিনিয়োগ হচ্ছেনা, ডলার সঙ্কট কাটছে না, মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের খরচের সক্ষমতা কমছে দ্রুত। যে রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয়ের উপর নির্ভর করে রিজার্ভের পরিমাণের ওঠানামা, সেটাও সাম্প্রতিক সময়ে কমে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সূচক পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাচ্ছে- বেশিরভাগ সূচকই নিম্নগামী হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন তথা কয়েকটি বড় বড় স্থাপনা নির্মাণ মানেইতো সামগ্রিক উন্নয়ন নয়। দেশের সব মানুষ ভালো নেই। নতুন বিনিয়োগ না থাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। ফলে লেখাপড়া শেষ করে অনেক তরুণ যুবক বেকার হয়ে ঘরে বসে আছে। অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাংক ব্যবস্থাও চরম সংকটের মুখোমুখি। সব মিলিয়ে আমি বলবো, অর্থনীতি কোনোভাবেই ভালো অবস্থায় নেই।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই এক ধরনের অনিশ্চয়তা দানা বেঁধে উঠছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলসমূহের পারস্পরিক অনাস্থা, অবিশ্বাস, সন্দেহ-সংশয়, হিংসাত্মক মনোভাব শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। এ প্রেক্ষিতে সমাধানের পথ কোনদিকে?
এমন প্রশ্নের আলোকে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া দুই বিশিষ্ট অতিথি নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন। আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, বিরাজমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে জরুরিভাবে সংলাপ আয়োজন প্রয়োজন। বিদেশ থেকে এসে অন্যরা আমাদের সমস্যার সমাধান করে দেবে, এটা কোনভাবেই ভাবা উচিত হবে না। নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরাই করতে হবে।
এই প্রসঙ্গে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বর্তমানে দেশে গণতন্ত্রের অস্তিত্ব নেই। দমন-পীড়ন, নির্যাতন, হামলা-মামলার বেড়াজালে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। গণতন্ত্রের মূল কথা হলো স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা ভালোভাবে বাঁচার স্বাধীনতা, নিজের সকল মৌলিক অধিকার ভোগ করার স্বাধীনতা, মুক্তকণ্ঠে নিজের মতামত ব্যক্ত করার স্বাধীনতা, নিজের ইচ্ছেমতো ভোট দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার স্বাধীনতা- এসবের কোনোটিই এখন দেশে নেই।
তিনি বলেন, আমরা বার বার বলছি, দেশের সুস্থ, সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ, পক্ষপাতহীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। যা হবে শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক, অবাধ এবং সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশে। কিন্তু আমাদের এ দাবির প্রতি সরকার কোনভাবেই কর্ণপাত করছে না। তারা তাদের নীলনকশা অনুযায়ী বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনের পায়তারা করছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরাজমান অবস্থার কারণে বিদেশিরা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে বুদ্ধি-পরামর্শ দিতে আসছে।
নিজেদের ঘরের ঝগড়া বিবাদ নিজেরা মেটাতে না পারলে স্বাভাবিকভাবেই অন্য বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসে তা মিটিয়ে দিতে। আমাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থাও হয়েছে তেমন। বিদেশিরা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাক-আমরা কিন্তু কেউই তা চাইনা । কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেদিকেই নিয়ে যাচ্ছে আমাদের। অতীতেও দেখা গেছে,আমাদের গভীর রাজনৈতিক সংকটের সমাধানে বিদেশিরা এসেছেন। তাদের পরামর্শ মেনে সমস্যার সমাধান করতে হয়েছে আমাদের। আমার মনে হয়, এবারও পরিস্থিতি এগিয়ে যাচ্ছে সেদিকেই।
দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে আপামর জনসধারণের সুখ শান্তি নিশ্চিত করতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই। অথচ বিরোধী দলের এক দফা দাবি- বর্তমান সরকারের পদত্যাগ এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণমলক নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে সরকার মোটেও গ্রাহ্য করছেনা।
এমন অবস্থায় রাজপথের আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ১৯৯০ এবং ১৯৯৬ এর মতো সরকারকে পদত্যাগের বাধ্য করার মতো পরিস্থিতি হলে রাজনৈতিক সংঘাত, অস্থিরতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রভৃতির ফলে অর্থনীতিতে আবার স্থবিরতা চলে আসবে, যেভাবে আমরা এগিয়ে যাচ্ছিলাম উন্নয়নের গতি থেমে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে। যা আমরা কেউ প্রত্যাশা করিনা। তেমন পরিস্থিতি এড়াতে হলে আমাদের দুই পক্ষের সিনিয়র রাজনীতিবিদদের ত্যাগী মনোভাব নিয়ে পারস্পরিক সংলাপে বসতে হবে বলে মনে করছেন দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল মাতলুব আহমাদ। সময় আর খুব বেশি বাকি নেই।
দেশের প্রয়োজনে ইগো, জেদ,ক্ষোভ, দুঃখ-বেদনা সবকিছু ত্যাগ করে সংকট উত্তরণের লক্ষ্যে আন্তরিক চিন্তাভাবনা নিয়ে দুই পক্ষকে অবশ্যই আলোচনার টেবিলে মুখোমুখি হতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিজেদের ইগো, জেদ, মনে চেপে থাকা ক্ষোভ দুঃখ-বেদনা ইত্যাদি দুরে ঠেলে দিয়ে দেশের ভবিষ্যত, দেশের মানুষের কল্যাণের দিকটাকে বিবেচনায় রেখে গঠনমূলক সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। অপরদিকে অন্য আরেক অতিথি রাজনীতিবিদ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু এ প্রেক্ষিতে নিজের অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, সরকার এবং বিরোধী পক্ষের আলোচনা ফলপ্রসু হলে এবং সেই অনুযায়ী সবকিছু ঠিকঠাক মতো বাস্তবায়ন হলে গ্রহণযোগ্য সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু অতীতে, ২০১৮ সালে সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলের সবাই সংলাপ করেছিলেন।
আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে তা মোটেও বাস্তবায়িত হয়নি। একটি খারাপ নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছিল তখন । ফলে বর্তমান সময়ে তাঁর সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অবাধ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিকে কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না। সবার বদ্ধমূল ধারণা, সেই ২০১৪ ও ২০১৮ এর নিকৃষ্ট নির্বাচনের আরেকটি নতুন নমুনা হবে তাঁর অধীনে এবারে যদি নির্বাচনটি হয়। ফলে চরম অবিশ্বাস আর অনাস্থা বর্তমানে তার পদত্যাগ এবং তত্ত্বাবধায়ক নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিকে জোরদার করেছে।
এখন সরকার এই দাবি না মানায় গণ-আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজপথে দাবি আদায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে। এর বিকল্প নেই। সরকার বিষয়টিকে সমাধান না করে জটিল করে তুলেছে। বিদেশিরা এ বিষয়ে নানা শলাপরামর্শ করছেন। এটা কাঙ্খিত না হলেও পরিস্থিতি ক্রমেই আরও জটিল হচ্ছে। তখন বিদেশিদের পরামর্শ শুনে সমস্যা সমাধান করতে হবে বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে। আবদুল আউয়াল মিন্টুর এ কথার প্রেক্ষিতে অপর অতিথি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
স্বাধীনতা অর্জনের পর ৫২-৫৩ বছর পেরিয়ে যাবার পরও আমরা আমাদের রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বার বার হোঁচট খাচ্ছি, বিদেশিরা এসে খবরদারি করতে চাইছে। এটা আমাদের রাজনীতিবিদদের জন্য চরম অপমানজনক ব্যাপার। তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত। আমরা কেন বাইরের শক্তিকে আমাদের নিজস্ব ব্যাপারে হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিচ্ছি- এটা গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। আমাদের রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান রাজনৈতিকভাবে পারস্পরিক সমঝোতা, শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, আস্থার ভিত্তিতে করতে হবে। দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার এবং বিরোধী উভয় পক্ষকে ত্যাগী মনোভাব নিয়ে ভবিষ্যত কর্মপন্থা ঠিক করতে হবে।








