বিএনপি গণমিছিলের নামে দেশ ও মানুষের ক্ষতি করলে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
বিএনপিকে সাবধান করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির গণমিছিল থেকে যদি মানুষের জানমালের ওপর হামলা করা হয় আমরা ছেড়ে দেব না।
শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত বঙ্গমাতার ৯৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণে সভায় তিনি একথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, যে দল করে তারেক রহমানের লাঠিয়াল বাহিনী হওয়া ছাড়া কোনো নির্বাচনেই অংশ নেওয়া যায় না। সে দল করার কোনো যুক্তি নেই।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি আশা করেছিল উজরা জেয়া তাদের প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলবে কিন্তু কিছুই বলেনি। তারা বুঝতে পেরেছে বিদেশিদের কাছে কয়েক বছর ধরে ধরনা দিয়ে কোনো লাভ নেই। কেউ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কিছু বলছে না। এখন তারা ভিন্ন কথা বলছে। এবার যদি বিএনপি জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে তাহলে তারা খাদের কিনারায় পৌঁছে যাবে।
দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য বিএনপি ও তার মিত্ররা উঠেপড়ে লেগেছে অভিযোগ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আজ নাকি তারা গণমিছিল করবে। গণমিছিল থেকে যদি মানুষের ওপর হামলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা হয়, মানুষের সহায়-সম্পত্তি নষ্ট করা হয়, তাহলে আমরা ছেড়ে দেবো না। আমরা জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।
তিনি বলেন, চার থেকে সাড়ে চার মাসের মধ্যে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে গেছে, সেটি সমগ্র বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে এবং হয়েছে। আমরা গত পরশু ভারত সফর করে এসেছি। ভারত সফরকালে আমরা যাদের সঙ্গে দেখা করেছি, আলাপ করেছি, তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ভবিষ্যতেও যেন এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যেন বজায় থাকে।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে নিয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের সহযোগিতা ছাড়া বঙ্গবন্ধু যে অসাধ্য সাধন করেছেন তা সম্ভব হতো না। তিনি একটি ঘুমন্ত জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের মূল মন্ত্রে উজ্জ্বীবিত করে এক সাগর রক্ত পাড়ি দিয়ে স্বাধীনতার বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন। শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু থেকে জাতির পিতা এই উত্তরণের ক্ষেত্রে বঙ্গমাতার বিরাট ভূমিকা ছিল। বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে থাকতেন, তখন বঙ্গমাতা সংসার সামলেছেন। তিনি নিভৃতচারী, মহিয়সী নারী ছিলেন। একেবারে একজন সাধারণ নারী হিসেবে তিনি জীবন যাপন করেছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু সুজিত রায় নন্দী, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান টিটু, সভাপতি মন্ডলী সদস্য, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির আসারারুল হাসান আসু, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সোনারগাঁ উপজেলা বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি বিল্লাল হোসেন বেপারী।







