রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন দেশ দুটির মধ্যে চলছে উত্তপ্ত সম্পর্ক। ক্রিকেটও সেটির বাইরে নেই। এশিয়া কাপের এবারের আসর বসার কথা ছিল ভারতে, পাকিস্তান আসবে না বলে সেটি গেছে মধ্যপ্রাচ্যে। সেখানেও মিলছে না দুদলের মন! রোববার মাঠে গড়িয়েছিল দুদলের গ্রুপপর্বের ম্যাচে। হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে ভারত একপেশে জয় তুলেছে। যেটি ছাপিয়ে গেছে পাকিস্তান খেলোয়াড়দের সাথে ভারতের খেলোয়াড়দের হাত না মেলানো বিতর্ক। ম্যাচের আগে-পরে প্রতিবেশিদের সঙ্গে হাত মেলাননি সূর্যকুমার-হার্দিকরা। ঘটনার জেরে আসছে শান্তির প্রসঙ্গও। দেখে নেয়া যাক আইন কী বলছে।
গ্রুপপর্বের লড়াইয়ে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার টসে জিতে আগে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আঘা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৭ রানের সংগ্রহ গড়ে দলটি। জবাবে ৭ উইকেট ও ২৫ বল হাতে রেখে জয়ে নোঙর করে ভারত। এই ম্যাচ ঘিরে এখন যত আলোচনা হাত না মেলানো প্রসঙ্গে।
গত এপ্রিলে কাশ্মীর ইস্যুতে সংঘাতের পর ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব নতুন মোড় নিয়েছিল। এশিয়া কাপে দুদল মুখোমুখি হবে কিনা তা নিয়েও ছিল শঙ্কা। শেষপর্যন্ত গ্রুপপর্বে মুখোমুখি হলেও বিতর্ক পিছু ছাড়ল না। যে বিতর্কের উদয় ঘটিয়েছে ভারত দল।
টসের পর পাকিস্তান অধিনায়ক সালমানের সঙ্গে হাত মেলাননি ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ম্যাচ শেষেও পাকিস্তান ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে মাঠ ছাড়েন সূর্যকুমার ও শিভম দুবে। ভারতের বাকি ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফরা সাজঘর থেকে নামেননি। অন্যদিকে পাকিস্তান দল ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাতে অপেক্ষা করছিল মাঠে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের নীতি অনুযায়ী, এটি স্পিরিট অব ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্ত। যাতে স্পষ্ট বলা আছে, প্রতিপক্ষকে তাদের সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানান এবং আপনার নিজের দলের সাফল্য উপভোগ করুন। ফলাফল যা-ই হোক না কেন, ম্যাচ শেষে কর্মকর্তাদের এবং আপনার প্রতিপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। অন্যথায় এটি আইসিসির আচরণবিধি অনুচ্ছেদ ২.১.১এর ধারা অনুযায়ী খেলার চেতনার পরিপন্থী আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। যা লেভেল ১ ধরনের অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত হবে।
সেক্ষেত্রে ভারতের খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ জরিমানা হতে পারে এবং নামের পাশে যুক্ত হতে পারে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট। কিন্তু হাত মেলানোকে নিছক সৌজন্যের প্রতীক হিসেবেই ধরা হয়। ইচ্ছাকৃত হাত না মেলানো প্রসঙ্গে কোন শাস্তির কথা নেই আইসিসির আচরণবিধিতে। সেক্ষেত্রে আইসিসির ‘মৃদু তিরস্কারে’ পার পেতে পারে ভারত দলের এই অখেলোয়াড়ি আচরণ।








