ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে টানা সপ্তম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
আজ (১৮ জুলাই) শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে তিনজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার ‘বিভ্রান্তিকর নির্দেশনায় পরিচালিত’ দুটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে মাইনের বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
রেভল্যুশনারি গার্ড আরও জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা চারটি জাহাজ তারা থামিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্রমাগত দুর্বল করার লক্ষ্যেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে। ইরানের অভিযোগ, মার্কিন বাহিনী সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং দুটি সেতুসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে তেহরান।
ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, কুয়েতে আল-আদিরি সামরিক শিবিরের গোলাবারুদ গুদাম, আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির সদর দপ্তর, গোলাবারুদ সংরক্ষণাগার এবং কয়েকটি যোগাযোগ স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকেও আঘাত হানা হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও দুই থেকে তিন দিন অব্যাহত থাকলে তেহরান পূর্ণমাত্রার আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করবে।
প্যারিসভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক জ্যঁ-জোরেস ফাউন্ডেশনের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ডেভিড খালফা বলেছেন, সংঘাত এখন কৌশলগত অবকাঠামোকেও কেন্দ্র করে বিস্তৃত হচ্ছে। তবে উত্তেজনা বাড়লেও কোনো পক্ষের দীর্ঘমেয়াদে এই সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার কৌশলগত স্বার্থ নেই। তবুও উভয় পক্ষই আপসকে আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি তুলে ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয় নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অতিরিক্ত গরমের মধ্যেও পিক আওয়ারে এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার সীমিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।









