মাঠের বাইরেও সমান আলোচনায় ছিলেন শামি
টেস্ট থেকে অবসর ভারত পেসারের

কলকাতার ইডেন গার্ডেনস, ৬ নভেম্বর ২০১৩, ২৩ বর্ষী মোহাম্মদ শামি ভারতের সাদা পোশাকে নেমেছেন অভিষেক টেস্ট খেলতে। প্রতিপক্ষ ক্রিস গেইল, মারলন স্যামুয়েল, কাইরেন পোলার্ড, ড্যারেন ব্রাভোদের শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চমকে দিয়ে ম্যাচে একাই তুলেন নেন ৯ উইকেট, প্রথম ইনিংসে ৪টি, দ্বিতীয়টিতে ৫টি। ১৩ বছর পর একইদিনে লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন তিনি। ক্রিকেটের বাইরেও ডানহাতি পেসারকে নিয়ে ছিল বেশ আলোচনা-সমালোচনা। যা ৩৬ বর্ষী তারকাকে বারবার এনেছে সংবাদ শিরোনামে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওবার্তায় টেস্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের তারকা পেসার। নিজের অভিষেক টেস্টের তারিখে টেস্টকে বিদায় বলেছেন গর্বের সাথে। ভারতের হয়ে ৬৪ টেস্টে ২২৯ উইকেট নিয়েছেন। পরিসংখ্যানটি তাকে দেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা পেসারের মঞ্চে বসিয়েছে। তার ইনিংসে সেরা বোলিং ৬/৫৬, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। আর কোন ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে সেরা বোলিং ৯/১১৮, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাট হাতে তিনি ৮৯ ইনিংসে ৭৫০ রান করেছেন দুই ফিফটিতে। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৫৬, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলেছেন ২০২৩ সালে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল।
তবে শামির ক্যারিয়ারে আরও একটি স্মরণীয় মুহূর্ত আছে। সেটা টেস্ট নয়, ওয়ানডে ক্রিকেটে। ঘরের মাঠে ২০২৩ আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপে ২৪ উইকেট নিয়ে ছিলেন আসরে সর্বোচ্চ শিকারি। ফাইনালে বেশ বিবর্ণ ছিলেন, ৭ ওভারে নেন ১ উইকেট, হজম করেন ৪৭ রান। সেই ম্যাচে হারের পর সাজঘরে এসে তাকে সান্ত্বনা দিয়ে জড়িয়ে নেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

শামির খেলোয়াড়ি জীবনের বাইরে রয়েছে বেশ সমালোচনার বিষয়। বিশেষ করে স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাদ ঘিরে। স্ত্রী হাসিন জাহানের সঙ্গে শামির বিবাদ নতুন করে ছিল না। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তারকা পেসারকে লোভী ও ছোট মানসিকতার মানুষ আখ্যা দিয়েছিলেন হাসিন। ২০২৮ সাল থেকে আইনিভাবে আলাদা থাকছেন তারা।
সেবছর মে’তে শামিকে ইমেইলে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ১ কোটি রুপি দাবি করা হয়। সেসময় উত্তর প্রদেশের আমরোহা জেলায় সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশনে শামির ভাই হাসিব এফআইআর দায়ের করেন। এফআইআরে অভিযুক্ত হিসেবে রাজপুত সিন্দর নামে একজনকে উল্লেখ করা হয়।
একইবছর আগস্টে অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির দলে জায়গা হয়নি তার। আইপিএল ২০২৫এ সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। বিশ্বকাপ ২০২৩এর পর থেকে দীর্ঘমেয়াদে চোটের ধাক্কা সামলে ওঠার পর শামি পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে পারেননি। সেসময় তার অবসর নিয়ে আলোচনা ওঠে। সেসব নিয়ে তিনি বেশ আক্ষেপ করে বলেছিলেন মনের কথা।
‘কারো যদি সমস্য থাকে আমাকে বলুন, আমার অবসরে যাওয়া যদি কারও ভালো হয় সেটা আমাকে জানান। কারও জীবনের এমন কী ক্ষতি হয়ে গেছি যে, আমাকে অবসর নিতে হবে? যেদিন আমি বিরক্ত বোধ করব সেদিন নিজেই ক্রিকেটকে বিদায় জানাবো।’
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ভারতের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে অবনমন হন শামির।





