গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলা পরিস্থিতির মধ্যে ঐতিহাসিক বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত ও ইসরায়েল, যা উভয় দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীরভাবে যুক্ত করবে। তবে এই সময়কালে এমন চুক্তি স্বাক্ষর বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সংবাদ মাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, চুক্তিটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে এবং একটি দৃঢ় ও স্থিতিশীল বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তুলতে দুই দেশের অভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে, এই চুক্তির সময়কাল এবং প্রেক্ষাপট ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
৮ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বলেন, এই চুক্তি উভয় দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলবে। এটি ইসরায়েলি রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে এবং বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল বাজারে ব্যবসা করার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুবিধা প্রদান করবে।
আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা
চুক্তির প্রেক্ষাপট ঘিরে সমালোচনার কারণ— ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার অভিযোগ চলছে এবং অনেক দেশ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ভারত ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করে স্পষ্টভাবে তাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে। সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো, ভারতের সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বেজালেল। যিনি পশ্চিমা দেশগুলোতে নিষিদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত।
বিনিয়োগ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে এমন সময়ে, যখন ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে, যার ফলে প্রায় ২ লাখ মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন। এটিকে আদানি গোষ্ঠীর হাইফা বন্দর-এর বিনিয়োগ রক্ষা ও আইএমইসি করিডোর চালু রাখার কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তাই অনেকেই মনে করছেন, ভারত এই চুক্তির মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বার্থ ও রাজনৈতিক আদর্শকে মানবাধিকারের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছে।
বিশ্বের বহু দেশ যখন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন ভারতের এই চুক্তি কেবল অর্থনীতিকেই নয়, আদর্শিকভাবে দুই রাষ্ট্রকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করছে। এটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে ভারত গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার বিষয়ে অবস্থান পরিবর্তন করবে না, বরং অর্থনৈতিক স্বার্থে তা উপেক্ষা করতেও প্রস্তুত।







