গণমাধ্যমের রূপান্তরের এই সময়ে

বাঙালির শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং গণমানুষের কথা তুলে ধরার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’। দেখতে দেখতে চ্যানেল আই বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আটাশ বছরে পদার্পণ করছে। এই গৌরবময় ও দীর্ঘ পথচলায় চ্যানেল আইয়ের সকল দর্শক, কলাকুশলী, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর কৃতজ্ঞতা।
গত প্রায় তিন দশকে বিশ্বজুড়ে যোগাযোগ ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ঘটে গেছে এক বিশাল বিপ্লব। ঐতিহ্যবাহী স্যাটেলাইট চ্যানেলের গণ্ডি পেরিয়ে আজ গণমাধ্যম প্রবেশ করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence) এক নতুন যুগে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অভাবনীয় প্রসারের ফলে তথ্যের আদান-প্রদান যেমন দ্রুততর হয়েছে, তেমনি গণমাধ্যমের বাজার ও পরিধি বিস্তৃত হয়েছে ব্যাপকভাবে। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতির পাশাপাশি এসে দাঁড়িয়েছে এক নতুন চ্যালেঞ্জ।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সবচেয়ে বড় যুদ্ধটি হচ্ছে তথ্যের ‘বস্তুনিষ্ঠতা’ বা সত্যতা বজায় রাখা। প্রতিদিনের তথ্যবোমার (Information Bomb) ফাঁদে পড়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল সংবাদ ও ভুয়া নিউজের (Fake News) পার্থক্য গড়ে তোলা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। যেখানে অ্যালগরিদম ও লাইক-শেয়ারের প্রতিযোগিতায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো ছুটছে অনিয়ন্ত্রিত গতিতে, সেখানে মূলধারার গণমাধ্যমকে নিজের নীতি, সততা ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে টিকতে হচ্ছে। মূলধারার গণমাধ্যমের জন্য তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে এই দ্রুতগতির ডিজিটাল জগতের সাথে তাল মিলিয়ে চলা ও সুস্থ প্রতিযোগিতা করা এক সাংঘাতিক কঠিন পরীক্ষা।
তবে চ্যানেল আই শুরু থেকেই বিশ্বাস করে- প্রযুক্তির পরিবর্তন হবে, কিন্তু গণমাধ্যমের মূল দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা কখনো বদলাবে না। এই ডিজিটাল রূপান্তরের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে প্রতিপক্ষ না ভেবে, সেগুলোকে মূলধারার বস্তুনিষ্ঠতার সাথে যুক্ত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। গতির চেয়ে আমরা সবসময় প্রাধান্য দিয়েছি সত্যকে, চটকদার সংবাদের চেয়ে গুরুত্ব দিয়েছি নিরপেক্ষতাকে।

আটাশ বছরে পদার্পণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের অঙ্গীকার- সময়ের সাথে থাকা, নিজেকে সমৃদ্ধ করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ও ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করা; কিন্তু তথ্যের সত্যতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও নৈতিকতার জায়গায় কোনো আপস না করা। ফেক নিউজের ভিড়ে চ্যানেল আই সবসময় সত্যের পক্ষে, সঠিক ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদের বিশ্বস্ত আশ্রয় হয়ে থাকবে।
বিগত ২৭ বছরের মতো আগামীদিনগুলোতেও আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থা নিয়ে চ্যানেল আই দেশপ্রেমের চেতনা, হৃদয়ে বাংলাদেশ এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পতাকাকে সমুন্নত রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
সবাইকে আবারও চ্যানেল আইয়ের আটাশ বছরে পদার্পণের শুভেচ্ছা।





