‘মেট্রোরেলের কথা শুনেছি এখনও দেখিনি, এইবার মহেশ্বরকাটির পুজোয় খানিকটা দেখায় দিল। আমার খুব ইচ্ছে ছিল মেট্রোরেলে উঠার, এখনও সময় পাইনি। তাই সেই ইচ্ছে অনেকটা পূরণ হলো,’ কথাগুলো বলছিলেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মহেশ্বরকাটি এলাকার বাসিন্দা সুমিত সরকার।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ষষ্ঠীর আগের দিন থেকেই প্রচণ্ড ভিড় হচ্ছে মহেশ্বরকাটি পূজামণ্ডপে। আশাশুনির বিভিন্ন এলাকা তো বটেই, জেলার অন্যান্য উপজেলা এমনকি পাশের জেলা খুলনার পাইকগাছা থেকেও দর্শনার্থীরা আসছেন পূজা দেখতে।
ছোট্ট গ্রাম মহেশ্বরকাটি। জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলমিটার দূরে। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এখন সাতক্ষীরা শহর থেকে সেখানে যেতে সময় লাগে ২০ মিনিটের মতো।
এই গ্রামের মাঝে ছোট নদী হিম খালি। নদীর পাড়েই মহেশ্বরকাটির পূজামণ্ডপ। নদীর ওপার থেকে মণ্ডপে আসার জন্যে এবার মেট্রোরেলের আদলে অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করেছে পূজা উদযাপন কমিটি। আর এই সেতু দেখতেই দর্শনার্থীদের এত হুলুস্থুল।
মহেশ্বরকাটির পূজা উদযাপন কমিটির কোষাধ্যক্ষ পুলিন মণ্ডল জানান, আমাদের মণ্ডপের দর্শনার্থীদের জন্যে প্রতি বছর আমরা নতুন কিছু আয়োজন রাখি। যেটা বিনোদনের সাথে সাথে দেশের ভাবমূর্তিও উজ্বল করে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার পদ্মা সেতুর ওপরে মেট্রোরেলের সেতু তৈরি করা হয়েছে। গত বছর তারা এই হিমখালী নদীর ওপরই পদ্মাসেতুর আদলে সেতু নির্মাণ করেছিলেন।
পুলিন আরও জানান, টানা দুই মাস ৫০ জন শ্রমিক সকাল সন্ধ্যা পরিশ্রম করে হিম খালি নদীর উপরে তৈরি করেছে এই মেট্রোরেল সেতুর রেপ্লিকা। সেতু পার হয়ে যেতে হবে পূজা মণ্ডপে। নদীর নিরাপত্তায় দশমীর পর অস্থায়ী এই সেতু খুলে নেয়া হবে।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার অধিকারী বলেন, দারুণ এই আয়োজন দেখতে আসছেন বহু মানুষ। তারাও সতর্ক আছেন। এই মণ্ডপের চারদিকে পুলিশের কড়া নজরদারি রয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অসীম বরণ চক্রবর্তী জানান, তিনি নিজে মহেশ্বরকাটি পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেছেন। মেট্রোরেলের আদলে মণ্ডপে প্রবেশ পথের চিন্তা খুব খুব সাধারণ, কিন্তু এর ব্যাপ্তী অসাধারণ। কারণ এই দীর্ঘ রেল পথ সারা বিশ্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। পাশাপাশি এই অজপাড়া গাঁয়ের প্রতিটি মানুয়ের কাছে পোঁছে যাচ্ছে দেশের বৈপ্লবিক উন্নয়নের বার্তা।
অসীম চক্রবর্তী আরও জানান, এ বছর জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৬০৬টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। এর মধ্যে কলারোয়া উপজেলার ৪৮টি, তালা ১৯৬টি, সাতক্ষীরা সদর ১১২টি, আশাশুনি ১০৮টি, দেবহাটা ২১টি, কালিগঞ্জ ৫১টি ও শ্যামনগরের ৭০টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর পূজা মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৫৯৯টি ও চলতি বছর ৬০৬টি। গত বছরের তুলনায় এ বছর ৭টি পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে।








