নরসিংদীর দূর্গম চরাঞ্চল আলোকবালীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের খোদাদিলা গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা শুরু হয়। পরে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন, নাজমুল শিকদার (১৯), মো. হালিম মিয়া (৫০), হারুন মিয়া (২০), মাসুদ রানা (২৪), আল আমিন (৩০), শফিউল্লাহ (৩৫), নাহিদ সরকার (২২) ও সাকিব সরকার (২৪)। এদের মধ্যে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নাজমুল শিকদার। তার বাড়ি রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষায়। এছাড়া আহত অপর ৬ জনের বাড়ি খোদাদিলা গ্রামে, তারা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে আহত ব্যক্তিরা কে কোন পক্ষের, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে যোগ দেয়ার জের ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুইদল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসান আলী ও অপরপক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের এই বিরোধ দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় দুইপক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন স্থানীয় কয়েকজন তরুণ-যুবক। এ নিয়ে গতকাল রাত ৮টার দিকে খোদাদিলা গ্রামে দুপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে আজ ভোরে দুইপক্ষই টেঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হন অন্তত ৮ জন।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রেজওয়ানা জেবিন জানান, টেঁটাবিদ্ধ নাজমুলকে পুলিশই আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসে। তার শরীরের তিন জায়গা থেকে টেঁটা অপসারণ করেছি আমরা। আরেক জায়গায় টেঁটার আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া জানান, এই সংঘর্ষের ঘটনায় ঠিক কতজন আহত হয়েছেন, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।








