বৃষ্টির মাত্রা কমতে থাকায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ি উপজেলার ভোগাই, চেল্লাখালি ও মহারশি নদীতে পাহাড়ি ঢলের তীব্রতাও কিছুটা কমেছে। তবে ওইসব নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও শহর রক্ষা বাঁধের পুরাতন ভাঙন অংশগুলো দিয়ে ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় ওই দুই উপজেলার অন্তত প্রায় ৫০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অনেক বাড়ি-ঘরে ঢলের পানি প্রবেশ করায় সাধারণ মানুষ দূর্ভোগের শিকার হন।
বুধবার (৩ জুলাই) ভোর থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে থাকায় ঢলের তোড়ে বিভিন্নস্থানে ভাঙনের চিহ্ন ফুটে ওঠেছে। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে খালভাঙ্গা ও শিমুলতলা এলাকায় ভোগাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে নালিতাবাড়ী পৌর শহরে প্রবলবেগে পানি প্রবাহিত হওয়ায় আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। চেল্লাখালি নদীর ঢলের তোড়ে দক্ষিণ গোল্লারপাড় এলাকায় শেরপুর-নালিতাবাড়ী ভায়া গাজীরখামার সড়কের কিছু অংশ বিধ্বস্ত হয়। সন্ন্যাসীভিটা নয়াডাড়া এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার বাঁধ ভেঙ্গে যায়।

ঝিনাইগাতীর মহারশি নদীর বেড়িবাঁধের পুরাতন ভাঙন অংশগুলো দিয়ে ঢলের পানি প্রবেশ করায় রামেরকুড়া, খৈলকুড়া, চতল, বনগাঁ, কান্দুলি, বগাডুবি এলাকায় বেশকিছু গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঢলের পানিতে মাছের ঘেড় ও পুকুর ডুবে মাছ ভেসে যাওয়ায় অন্তত: তিন শতাধিক মৎস্যচাষী আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নকিবুজ্জামান খান জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল কমার কারণে পাহাড়ি নদ-নদীগুলোর স্রোতের তীব্রতা কমে আসছে। পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলা ৩টি নদীর অন্তত ৩০০ মিটার বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। ভাঙন কবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে বালির বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল খায়রুম বলেছেন, পাহাড়ি ঢল এবং বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সকল জনপ্রতিনিধি এবং ইউএনওদের দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।










