পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়েই চলেছে। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৪০ টাকা পর্যন্ত। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে এক সপ্তাহের ব্যবধানে শুধু এ পণ্যটিরই মূল্য বেড়েছে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। বাজারভেদে দেশিজাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকা পর্যন্ত।
ব্যবসায়ীরা বলছেন: দেশি পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হওয়ায় কৃষকের ঘরে এখন মজুদ পেঁয়াজ নেই। এতে বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে। অন্যদিকে ভারতে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। মূলত এসব কারণেই দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।
পেঁয়াজ আমদানিকারক এবং রাজধানীর শ্যামবাজার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মাজেদ দাম বাড়া প্রসঙ্গে বলেন: দেশি পেঁয়াজের মৌসুম শেষ হওয়ায় দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ সংকট রয়েছে। যার কারণে বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ভারতে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে আমদানি করা পেঁয়াজের দামও বাড়তি।
‘‘আগামী দুই মাস পর বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আসবে, তখন দাম কমতে শুরু হবে।’’
এদিকে কয়েক দিন আগেও বগুড়ার বাজারে দেশীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকা কেজিতে। ভারতীয় পেঁয়াজ ছিল ৮০ টাকার নিচে। সেই পেঁয়াজ এখন খুচরা বাজারে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা আর ভারতীয় পেঁয়াজ ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে রসুনের দাম । প্রতি কেজিতে ৬০ টাকারও বেশি বেড়েছে। দেশী রসুন ২৮০ এবং চীনা রসুন ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসয়ীরা বলছেন, দেশীয় পেঁয়াজের মজুদও শেষের পথে। আমদানি না বাড়লে দাম আরো বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা তাদের।
তবে দাম বৃদ্ধির জন্য বাজার সিন্ডিকেটকেই দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ। আমদানিকারকরা দাবি করছেন, সিন্ডিকেট নয়, আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।
এদিকে পেঁয়াজ- রসুনের দাম বাড়লেও আদার বাজারে কিছুটা স্বস্তি। দাম অর্ধেক কমেছে । প্রতি কেজি এখন ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বিদ্যমান ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে। একই সঙ্গে পেঁয়াজ রপ্তানিতে বেঁধে দেওয়া শুল্কও প্রত্যাহার করেছে ভারত এবং কমানো হয়েছে রপ্তানি শুল্কও। রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে দেশটি।
ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান ও মিসর থেকেও পেঁয়াজ আমাদানি করছেন আমদানিকারকরা। এতে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে আসার কথা ছিল, কিন্তু উল্টো দাম বাড়ছে।







