প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, মানুষ ভুল করলে সাধারণত ক্ষমা চায় বা অনুতপ্ত হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ মাস পেরিয়ে গেলেও আওয়ামী লীগ তাদের শাসনামলে সংঘটিত হত্যা ও গুমের ঘটনায় কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি, এমনকি শান্তিপূর্ণ থাকার প্রতিশ্রুতিও দেয়নি। এখন যদি আওয়ামী লীগ ভুল স্বীকার করে বা দুঃখ প্রকাশও করে, সেটার কোনো গুরুত্ব নেই। সময় পেরিয়ে গেছে এবং তাদের জন্য আর মনোনয়নের সুযোগও নেই।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় গৌর গোপাল সেবা আশ্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেই এবং মানুষের কাছে দলটির গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। বিদেশে অবস্থান করে দলটির নেতাকর্মীরা মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, হাজার হাজার পুলিশ নিহত হওয়ার মতো অবাস্তব দাবি তুলে ধরে এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করে তারা সহিংসতার বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা জনগণ গ্রহণ করবে না।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নিলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা নেই। বরং জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রেস সচিব আরও বলেন, কোনো দল যদি অস্ত্র তুলে নেয়, শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতা চালায় এবং গুম-খুন ও গণহত্যার মতো অপরাধে জড়ায়, তাহলে কোনো সভ্য রাষ্ট্রই তাকে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে না। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নিজেরাই নির্বাচনে অযোগ্যতা প্রমাণ করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষে আবার সাংবাদিকতায় ফেরার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
এর আগে তিনি নিজনান্দুয়ালী গৌর গোপাল সেবা আশ্রমের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং আশ্রম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আশ্রমের ধর্মীয় ও মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পরিদর্শন শেষে তিনি শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের চৌগাছিতে নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।








