বাংলাদেশ

বনানীর আগে বাসে যাত্রী তুললেই মামলা: ডিএমপি কমিশনার

ডিএমপি কমিশনারের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ডিএমপি কমিশনারের সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, রাজধানীর যানজট নিরসনে আন্তঃজেলা বাসের গেটলক সিস্টেম চালু করা হয়েছে। মহাখালী টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো বনানী এলাকা পর্যন্ত যদি নিয়ম অমান্য করে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে ট্রাফিক সেফটি অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম অ্যান্ড রোড সেফটি শ্লো-গান কন্টেস্ট-২০২৪ -শীর্ষক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ে আহ্ছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এইউএসটি) মিলনায়তনে “ট্রাফিক সেফটি অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম অ্যান্ড রোড সেফটি স্লোগান কনটেস্ট-২০২৪” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হাবিবুর রহমান বলেন, গেটলক চেকিং সিস্টেমে টার্মিনাল থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বাস গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়ার পর নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া আর কোথাও দাঁড়াতে পারবে না। টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে গন্তব্যে চলে যাবে। যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা মহানগরী এলাকায় মহাখালী একটি বড় বাস টার্মিনাল। এই টার্মিনালে যে পরিমাণ জায়গা রয়েছে, সেখানে ৪০০ গাড়ি পার্কিংয়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এখানে প্রতিদিন ১৮০০ গাড়ি চলাচল করে। যে কারণে দীর্ঘদিন ধরে গাড়িগুলো রাস্তার মধ্যে পার্ক করা হতো। মহাখালী থেকে উত্তরা হয়ে আব্দুল্লাহপুর দিয়ে যে গাড়িগুলো ঢাকার বাইরে যায় সেই গাড়িগুলো মহাখালী থেকে ছেড়ে বনানী পর্যন্ত একটু একটু করে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলতে তুলতে যেত। বিশেষ করে মহাখালী রেল ক্রসিংয়ে যাত্রীরা জড়ো হলে সেখান থেকে বাসগুলো যাত্রী তুলতো। এটিই মহাখালী এলাকায় যানজটের প্রধান কারণ।

মহাখালী বাস মালিক-শ্রমিক ও টার্মিনাল অথরিটির সঙ্গে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন: যানজট কমানোর উদ্দেশ্যে মহাখালী থেকে যে গাড়িগুলো ছাড়বে তারা বনানীর আগে কোনোভাবেই পার্ক করবে না, কোনো যাত্রী তুলবে না এবং যাত্রী নামাবে না। ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রমে দেখা গেছে, কোনো কোনো গাড়ি এই নিয়ম অমান্য করেছে। নিয়ম না মানা ইতোমধ্যে ১৫টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে যাত্রী ও বাসের সংশ্লিষ্টদের বাধ্য করা হবে।

জাইকার কারিগরি সহযোগিতায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ‘ঢাকা রোড ট্রাফিক সেফটি প্রজেক্ট (ডিআরএসপি)’ ও আহ্ছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এইউএসটি)-এর যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়

একই সড়কে যখন বিভিন্ন গাড়ির গতি তিন রকম থাকবে তখন এতে সড়কে দুর্ঘটনা বাড়বে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন: একজন চালক রাস্তার অবস্থা বুঝে গাড়ি চালান। আমাদের ঢাকা মহানগরীতে বড় গাড়ির জন্য ৪০ ও মোটরসাইকেলের জন্য ৩০ কিলোমিটার গতি নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে বৈধ ওভারটেকিংয়ের কোথাও ব্যবস্থা নেই। পরিস্থিতি বুঝে চালক বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে ওভারটেকিং করলে সমস্যা হবে না।

এরআগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন: শুধু পুলিশের একক প্রচেষ্টায় যানজট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সিটি কর্পোরেশন, গাড়ির মালিক, ড্রাইভার ও পথচারি সবাইকেই আন্তরিক হতে হবে। নগরবাসীর প্রত্যেকের কিছু না কিছু দায়িত্ব রয়েছে। সবাইকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে ও নিজ নিজ জায়গা থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে, তাহলেই ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আসতে পারে।

ছাত্রদের উদ্দেশ্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমি প্রত্যাশা করি আপনারা ট্রাফিক সেফটি সম্পর্কে সচেতন হবেন ও অন্যদের সচেতন করবেন। বাংলাদেশের ছাত্র সমাজের একটি গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে। বাংলাদেশের ঐতিহাসিক যত অর্জন সবগুলোতেই ছাত্রদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। সুতরাং ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে সচেতনতার কাজটি শুধু পুলিশের কাঁধে ছেড়ে না দিয়ে ছাত্র সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। ইতোপূর্বে প্রত্যেকটি সংকটময় সময়ে ছাত্র সমাজ এগিয়ে এসেছে, তারা সফলতাও পেয়েছে। রাস্তায় গাড়ি দুর্ঘটনায় যেন একজন মানুষও না মারা যায় সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন করার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে ছাত্রদেরকেই।

বন্যার পানিতে মাছ ধরা, চ্যানেল আই অনলাইন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ
সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মহানগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অনন্য পরিবর্তন আসছে

অনুষ্ঠানে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড, যানজট নিরসনে ভূমিকা, নিরাপদ পথচারী পারাপার, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল সিগন্যালের গুরুত্বসহ ট্রাফিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং ঢাকা রোড ট্রাফিক সেফটি প্রজেক্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-এ্যাডমিন অ্যান্ড রিসার্চ) ও ডিআরএসপির প্রজেক্ট ম্যানেজার মো: জাহাঙ্গীর আলম।

ট্রাফিক সেফটি অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম অ্যান্ড রোড সেফটি শ্লোগান কন্টেস্ট-২০২৪ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আহ্ছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, জাইকার প্রতিনিধি ইউমি ওকাজাকি।

আহ্ছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এইউএসটি) এর ভাইস- চ্যান্সেলর এর নিকট রোড সেফটি স্লোগান কনটেস্ট-২০২৪ এর লিফলেট তুলে দেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান

এছাড়াও প্রকল্প ম্যানেজার ও ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের (ট্রাফিক- অ্যাডমিন ও রিসার্চ) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, জাইকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি মিস ইউমি ওকাজাকি, জাইকার প্রোগ্রাম অফিসার মো: রাইসুল ইসলাম, ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর (ডিআরএসপি) সঞ্জয় রায়, মোঃ মাহমুদ হাসান, এ এইচ এম শহীদুল ইসলাম, কমিউনিকেশন ম্যানেজার (ডিআরএসপি) সামনুম সুলতানা, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও প্রায় ৮০০ জন ছাত্র-ছাত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়:আন্তঃজেলা বাস গেটলক সিস্টেম ডিএমপি কমিশনার

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…