একের পর এক নাটকীয়তার পর হাইব্রিড মডেলে এশিয়া কাপের ভেন্যু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এসেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পাকিস্তানের মাটিতে ভারত খেলতে না চাওয়াতেই নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কাকে রাখা হচ্ছে। তবে ভারতে অক্টোবরে শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের খেলতে যাওয়া পুরোপুরি দেশটির সরকারের অনুমোদনের উপর নির্ভর করছে।
পিসিবি চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি জানিয়েছেন, বোর্ড গত সপ্তাহে বিশ্বকাপের একটি খসড়া সময়সূচি প্রকাশের পরে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বিসিসিআইয়ের একতরফাভাবে ফিক্সচার তালিকা অনুমোদন যাতে করতে না পারে, সেদিকে জোর দেয়া হয়েছে।
শেঠি বলেন, ‘আইসিসিকে চিঠি দিয়ে বলেছি যে, আমরা এটিকে (বিশ্বকাপের সময়সূচি) অনুমোদন বা অননুমোদন দিতে পারি না। এ ব্যাপারে আমাদের সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ঠিক যেমন ভারতের ক্ষেত্রে হয়, সিদ্ধান্ত তাদের সরকারই নেয় যে তারা কখন খেলতে যাবে। আমরা আহমেদাবাদে খেলব কিনা, তা নিয়ে আমাদের কাছে জানতে চাওয়ার করার কোনো মানেই হয় না। যখন সময় আসবে, তখন দেখা যাবে। আমরা যাব কি যাব না, সেই ফয়সালার পর সরকার সিদ্ধান্ত নেবে আমরা কোথায় যাব। আমাদের সিদ্ধান্ত এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের উপর নির্ভর করবে।’
খসড়া অনুযায়ী ৫ অক্টোবর শুরু হবে বিশ্বকাপ। এর দশদিন পর আহমেদাবাদে ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচের দিন নির্ধারণ করা আছে। লিগ পর্বে পাকিস্তানের পাঁচটি ভেন্যুতে খেলার কথা রয়েছে। ২০১৬ সালে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে তারা ভারত সফরে যায়নি পাকিস্তান।
সময়সূচি ঘোষণায় এবার হচ্ছে নজিরবিহীন বিলম্ব। বিশ্বকাপের সূচি অন্তত এক বছর আগে প্রকাশ করা হয়। হাতে চার মাসেরও কম সময় থাকলেও সূচি প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। বিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি জয় শাহ মূলত ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের সময় সূচি প্রকাশ করা হবে। বাস্তবে তা হয়নি। আগামী ২৭ জুন এ ব্যাপারে যদিও নতুন খবর আসতে পারে।
নাজাম শেঠি পরামর্শ দিয়েছিলেন, আইসিসি সকল অংশগ্রহণকারী দেশের বোর্ডের পাশাপাশি সম্প্রচারকদের কাছ থেকে বিশ্বকাপের সফরসূচি সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পরে পিসিবির সিদ্ধান্ত জানাতে আরও বিলম্ব হতে পারে। তার ভাষ্য, ‘বিসিসিআই সময়সূচি ঘোষণা করতে যাচ্ছিল। কিন্তু আমরা তাদের বলেছি, সরকারি অনুমোদন ছাড়া কিছুই নিশ্চিত করতে পারব না।’
পাকিস্তান সরকার কতদিনের ভেতর অনুমোদন দেয়ার বিষয়ে তাদের অবস্থান জানাবে, তার সময়সীমা নির্ধারণ নিয়ে শেঠি কিছুই জানাননি। অক্টোবরে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনের জন্য দেশটি প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে শীঘ্রই বিশ্বকাপ নিয়ে কোনোকিছু বিবেচনা করার সম্ভাবনা নেই।
পিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি উত্থাপন এবং তারা এই বিষয়ে কোনো আলোচনা করেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, তাদের পররাষ্ট্র দপ্তরকেও এ ব্যাপারে যুক্ত করতে হবে এবং অনুমতির বিষয় এখন ভাবাটা অতি জলদি হবে। এছাড়াও, আমরা জানি না ততদিনে কারা ক্ষমতায় থাকবে। তাই এখনই বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি নেই। কিন্তু যখন একটি স্থিতিশীল সরকার থাকবে, তখন আমরা ভারত সফরে যাব কিনা সেই প্রশ্ন সরকারকে করার সময় আসবে।’
২০১৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে যাওয়ার আগে সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছিল পিসিবি। পরে পিসিবির তিন সদস্যের একটি দল ভারতে গিয়ে ভেন্যু পরিবর্তনে জোর দেয়। পরে পাকিস্তানের ম্যাচটি ধর্মশালার পরিবর্তে কলকাতায় সরিয়ে নেয়া হয়।
এ ব্যাপারে শেঠি বলেন, ‘আমরা আইসিসিকেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করতে বলেছি। যদি আমাদের সরকার যেতে দেয় তবে আমরা যাব। অন্যথায়, আমরা বেশি কিছু করতে পারব না। তবে যদি তারা আমাদের অনুমতি দেয়, তবে আমাদের ভেন্যু পছন্দ আমাদের উপর নির্ভর করে। খেলতে যাওয়াটা সরকারের সিদ্ধান্ত, বোর্ডের নয়। তাই আমরা তাদের উপর এটি ছেড়ে দিচ্ছি। পিসিবি এবং বিসিসিআই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।’
ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে বিপরীতমুখী অবস্থানে আছে ভারত এবং পাকিস্তান। গত মাসে ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে পিসিবি চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি বলেছিলেন, ‘ভারত এখন যদি নিরপেক্ষ ভেন্যু পেতে চায় এবং হাইব্রিড মডেল গ্রহণ করে, তাহলে আমরাও বিশ্বকাপে হাইব্রিড মডেল ব্যবহার করব। পাকিস্তান বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচগুলো ঢাকা বা অন্য যেকোনো ভেন্যুতে খেলতে পারে। একই মডেল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও চলবে। ব্যাপারটা খুবই সহজ। পাকিস্তানে খেলতে ভারত রাজি হলে আমরাও বিশ্বকাপ খেলতে ওদের দেশে যাব।’







