এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদসহ পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। এই বিষয়ে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদ একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, বুধবার (১০ জুন) অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আইএইএর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাবে ইরানকে সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করার পাশাপাশি ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদানের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শকদের প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করাকে অত্যন্ত জরুরি ও অপরিহার্য বলে উল্লেখ করা হয়।
৩৫ সদস্যবিশিষ্ট বোর্ডে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেয় ২১টি দেশ। বিপক্ষে ভোট দেয় রাশিয়া, চীন ও নাইজার। এছাড়া ১০টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে এবং একটি দেশ বকেয়া সদস্যপদের কারণে ভোট দিতে পারেনি। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। কূটনীতিকদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা পালনে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর ফলে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আইএইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে তেহরান ওই স্থাপনাগুলোতে আইএইএ পরিদর্শকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। ফলে সংস্থাটি ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বর্তমান অবস্থানও যাচাই করতে পারেনি।
সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য বলছে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্রমানের ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতা ৯০ শতাংশ হওয়ায় এই মজুতকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি বলেন, এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করে তাত্ত্বিকভাবে প্রায় ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এর অর্থ এই নয় যে ইরান ইতোমধ্যে এমন কোনো অস্ত্র তৈরি করেছে। অন্যদিকে, ইরান বরাবরের মতোই দাবি করছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো চেষ্টা করছে না।
আইএইএতে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি নতুন প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেন, এতে সাম্প্রতিক হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব উপেক্ষা করা হয়েছে। তার দাবি, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও যেসব স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, সেখানে আইএইএকে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে ইরান। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে সেই সহযোগিতার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়নি।
এদিকে, প্রস্তাবে গত এক বছরে পারমাণবিক বিস্তাররোধ সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পূরণে ইরানের ব্যর্থতার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো আইএইএ আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে তার নিরাপত্তা চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করে।







