বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, ব্যক্তিগত সংগ্রাম, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বপ্নের কথা তুলে ধরে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ৭৮ বছরের জীবনের প্রাপ্তি ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি আজও স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন।
নিজের পোস্টে লেখায় মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিএনপি সরকারের সময়কার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। গোবিন্দনগরে ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন এবং ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ভবনের শিলান্যাস উত্তরাঞ্চলে কারিগরি শিক্ষার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯১–৯৬ এবং ২০০১–০৬ মেয়াদে গ্রামীণ সড়ক ও সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়। বিশেষ করে ১ হাজার ২৬০টি গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটানো এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে শিক্ষক সমাজের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ আমার বয়স ৭৮ বছর। গত ১৭ বছর কেটেছে গণতন্ত্রের সংগ্রামে। ১১ বার জেল খেটেছি। নীতির প্রশ্নে কোনোদিন আপস করিনি। তিনি আরও বলেন, জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসাই তাকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে।
ব্যক্তিগত জীবনের সফলতার পেছনে পরিবারের অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি। স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত এবং ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকায় শিক্ষকতা করছেন। পরিবারের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন তাকে রাজনীতির কঠিন পথে সাহস জুগিয়েছে।
শিক্ষাজীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। পরে ১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার জনপ্রতিনিধিত্বমূলক রাজনীতির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতি এবং বিএনপির মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন।
বার্তার শেষাংশে তরুণ প্রজন্মের প্রতি গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজকের তরুণেরা আমার সন্তানসম। আমি চাই এ দেশের আমার সব সন্তান দুধে-ভাতে থাকুক।








