দ্বিপক্ষীয় সিরিজে এখন আর দেখা মেলে না ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ। ২০১৩ সালে শেষবার নিজ উদ্যোগে মুখোমুখি হয়েছিল দুদল। এরপর থেকে তাদের লড়াই দেখতে তাকিয়ে থাকতে হয় বৈশ্বিক ও এসিসির কোন আসরে। এবার হচ্ছে না সেটিও, আসন্ন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন করেছে পাকিস্তান। তাতে বড় ক্ষতির মুখে বিশ্ব ক্রিকেট, হুমকির মুখেই বিশ্ব ক্রিকেটের ইকোসিস্টেম।
সম্প্রচারস্বত্ব, বিজ্ঞাপন, স্পন্সরশিপ, টিকিট বিক্রি ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম মিলিয়ে এই একটি ম্যাচ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস হয় আইসিসির কাছে। পাকিস্তানের দিক থেকে তাই ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণার পর আর্থিক ক্ষতির আলোচনা সামনে এসেছে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই না হলে প্রায় ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভারতের গণমাধ্যমে খবর, ভারত-পাকিস্তান টি-টুয়েন্টি ম্যাচের সম্মিলিত আর্থিক মূল্যের পরিমাণ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। তাই ম্যাচটি না হলে আইসিসির পাশাপাশি এ দুদেশও যে ক্ষতির মুখে পড়বে, তা পরিষ্কার।
কেন্দ্রীয় রাজস্ব কমে যাওয়া মানে সদস্য বোর্ডগুলোর জন্য বরাদ্দ বণ্টনও কমে যাবে আইসিসির, যা কেবল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সহযোগী এবং ছোট পূর্ণসদস্য দেশগুলো, যারা আইসিসির অর্থপ্রদানের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, তারা তাৎক্ষণিকভাবে এই টানাটানির মধ্যে পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান, আইসিসি, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), দুই দেশের খেলোয়াড়-কোচিং স্টাফ।
এসব ক্ষতি থেকে আরেকটু বিস্তারিত খুঁজলে দেখা যায়, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে সম্প্রচারকারী শুধু বিজ্ঞাপন থেকেই প্রায় ৩০০ কোটি রুপির (৪৫০ কোটি টাকা) বেশি আয় হারাবে। আইসিসির বার্ষিক রাজস্বের ৫.৭৫ শতাংশ পেয়ে থাকে পাকিস্তান। টাকার অঙ্কে যা ৩৪৫ কোটির বেশি। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করলে টান পড়তে পারে এই লভ্যাংশেও।
তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা না হলে ভারতের ক্ষতির পরিমাণ খুব বেশি হবে না। কেননা, তাদের বড় আয় আইসিসি থেকে পাওয়া রাজস্বের ৩৮.৫ শতাংশের পাশাপাশি আইপিএল। ক্ষতির সম্মুখীন হবে সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা। টুর্নামেন্টের আয়ের অংশও পাবে তারা। আর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেশটিতে হওয়ার কথা ছিল। এতে লঙ্কান ট্যুরিজম খাতে বড় প্রভাব পড়তে পারত। সঙ্গে ম্যাচের সাথে সার্বিক বিষয়াদি মিলিয়ে ব্যাপকভাবে লোকসানের শঙ্কা জেগেছে।






