মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগর উপজেলা বালাশুর চৌরাস্তায় নির্মাণাধীন একটি মার্কেট দখলের সময় বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে হামলা ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আলমগীর হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় অন্তত আরো ৮ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার বালাসুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর বালাসুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি তার ভাই তমিজউদ্দীনের সঙ্গে যৌথভাবে বালাসুর বাজারে একটি মার্কেট নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নির্মানাধীন ৮ তলা ভবনের পাইলিং এর উপর হান্নান হাজীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রসহ নির্মাণাধীন মার্কেট দখল করতে গেলে আলমগীর বাধা দেন। এ সময় তাকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। বাধা দিতে গেলে আরও কয়েকজন আহত হন। পরে আলমগীরকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে হাসপাতাল গেটে পুনরায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে সন্ত্রাসীরা। এসময় গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হলে সকাল ৯টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। তার মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
জমির মালিকানা দাবি করে প্রতিপক্ষ আদালতে মামলা করলেও সেখানে ব্যর্থ হন। এরপর তারা সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে একাধিকবার ওই জায়গা দখলের চেষ্টা চালান।
ব্যাবসায়ী আলমগীর হোসেনের নিহতের খবর মুহুর্তের মধ্যে আশপাশের ছড়িয়ে পরলে স্থানীয় লোকজন ও তার নিকটতম স্বজনরা হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ঢাকা- শ্রীনগর- দোহার সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে বালাশুর পয়েন্ট অবরোধ করে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পরলে যৌথ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযোগপত্র এখনো পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।







