কক্সবাজারের রামুতে ‘দাম্পত্য কলহের’ জেরে স্ত্রীর হাতে খুনের শিকার স্বামীর মৃতদেহ তিনদিন পর তালাবদ্ধ ভাড়া বাসার ভিতর থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে বুধবার ৪ মার্চ উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরোংলোয়া এলাকা থেকে এই মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া।
নিহত বেলাল উদ্দিন জিহাদ ওরফে বাদল ( ২৫ ) উপজেলার পূর্ব রাজারকুল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের ছেলে।
ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রী তাহেরা বেগম আঁখি পলাতক রয়েছে। তার বাবার বাড়ি রামুর খুনিয়াপালং এলাকায়।
মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, বাদল পেশায় ইজিবাইক চালক। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই টিকটকার হিসেবে সামাজিকভাবে পরিচিত। বুধবার সকালে তারা যে ভাড়া বাসা থাকতো সেটার ভিতর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের দরজা বাহির থেকে তালাবদ্ধ থাকায় ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় মেঝের বিছানায় বাদলকে লেপ ও বালিশ চাপা অবস্থায় মৃত পড়ে থাকতে দেখা যায়।
মৃতদেহে আঘাতের ধরণ ও সুরতহাল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রাথমিক ধারণার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, অন্তত ৩-৪ দিন আগে বাদলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এতে পঁচন ধরায় মৃতদেহ বিকৃত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, পরিবারের অমতে বাদল টিকটকার আঁখিকে বিয়ে করায় স্বজনরা বিষয়টি মেনে নেননি। এই নিয়ে বিরোধের জেরে বাদল তার স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন। গত ৪ মাস আগে স্বামী-স্ত্রী ওই ভাড়া বাসায় উঠে। সম্প্রতি তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়ায় প্রায় সময় কলহ লেগে থাকতো।
গত ৩-৪ দিন আগে রাতে দু’জনের মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্ত্রী তাহেরা বেগম আঁখি ঘরের দরজা তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়দের তথ্যের বরাতে জানান মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া।
তিনি জানান, পলাতক স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
বিকালে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।







