মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (২ মে) সিনিয়র এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, এই প্রস্তাবে আপাতত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানো যায়।
প্রায় চার সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে তাদের বোমা হামলা স্থগিত করার পরও এখন পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ করার কোনো চুক্তি হয়নি। এই সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।
গত দুই মাস ধরে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের জাহাজ ছাড়া প্রায় সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে রেখেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর থেকে জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপ করে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের প্রস্তাবে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো আমি মেনে নিতে পারি না।” যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে কোন অংশে আপত্তি জানিয়েছেন, তা উল্লেখ করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, ইরান দাবি করে আসছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভবিষ্যতে আর হামলা করবে না এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে, ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেবে।
এরপর পরবর্তী ধাপে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ইরানি কর্মকর্তা বলেন, জটিল পারমাণবিক ইস্যুকে আলোচনার শেষ ধাপে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাতে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব কূটনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির কারণে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানো এখনও অনিশ্চিত।







