২০২৪-২৫ অর্থ বছরের মাঝামাঝি এ সময়ে এসে শুল্ক-কর বাড়ানোয় বেড়েছে সব ধরনের সিগারেটের দাম। নতুন দামে বাজারজাত শুরু করেছে তামাকজাত পণ্যটির প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। বাজার ঘুরে দেখা গেছে সমান ও প্রকারভেদে সব ধরণের সিগারেটের দাম শলাকা প্রতি বেড়েছে ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত।
৯ জানুয়ারি শতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে ২০ শলাকার এক প্যাকেট বেনসন বিক্রি হচ্ছে ৩৭০ টাকায়, গোল্ডলিফ ২৮০ টাকা, লাকি স্ট্রাইক ২১০ টাকা, স্টার ১৭২ টাকা, ডার্বি-হলিউড ১৪৪ টাকা, রয়েল ১২৬ টাকায়।
আগের দরের সঙ্গে বর্তমান দরের পার্থক্য ৪৬ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। সব থেকে বেশি দাম বেড়েছে বেনসন সিগারেটে প্যাকেটে ৪৬ টাকা।
এ ছিলো সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি)। এই খুচরা দামেই প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দোকনে বিক্রি করে থাকে। ক্রেতাকে এই সিগারেট কিনতে আরও বাড়তি টাকা গুণতে হয়। যেটা দেশের আইনে সম্পূর্ণ বেআইনী।
এ ছাড়া বাজারে চোখ দিলে দেখা যাচ্ছে আগে ১৮ টাকা করে বিক্রি হলেও এখন প্রতি শলাকা বেনসন সিগারেট বিক্রি হেচ্ছে ২০ টাকায়। গোল্ডলিফের আগের দাম ১৩ টাকা থাকলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। প্রতি শলাকায় বেড়েছে ২ টাকা। এভাবে লাকি ১২ টাকা, স্টার ১০ টাকা, ডার্বি-হলিউড-পাইলট ৮ টাকা এবং রয়েল ৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রতি শলাকায় বেড়েছে ১ টাকা করে।
সিগারেট ও তামাক খাত থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সবচেয়ে বেশি রাজস্ব পায়। প্রতিটি শলাকার দামের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশই তাদের শুল্ক-কর হিসেবে দিতে হয়।
এনবিআরের প্রজ্ঞাপন বলছে: ১০ শলাকা হিসাবে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্যাকেটের দাম ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ টাকা ও তদূর্ধ্ব এবং সম্পূরক শুল্ক ৬০ শতাংশ থেকে ৬৭ শতাংশ করা হয়েছে। মধ্যম স্তরের সিগারেটের প্যাকেটের দাম ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকা ও তদূর্ধ্ব এবং সম্পূরক শুল্ক সাড়ে ৬৫ শতাংশ থেকে ৬৭ শতাংশ।
এছাড়া, উচ্চস্তরের সিগারেটের প্যাকেটের দাম ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা ও তদূর্ধ্ব এবং সম্পূরক শুল্ক সাড়ে ৬৫ শতাংশ থেকে ৬৭ শতাংশ; অতি উচ্চস্তরের সিগারেট ১৬০ টাকা বাড়িয়ে থেকে ১৮৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব এবং সম্পূরক শুল্ক সাড়ে ৬৫ শতাংশ থেকে ৬৭ শতাংশ করা হয়েছে।
সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে ব্যান্ডরোল থাকে। কারখানা থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানকে প্যাকেটের গায়ে ব্যান্ডরোল লাগিয়ে বাজারজাত করতে হয়। ব্যান্ডরোল বিক্রির মাধ্যমেই সরকার সিগারেট থেকে রাজস্ব আদায় করে থাকে।
২০২২-২৩ অর্থবছরে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য থেকে সরকার ৩২ হাজার ৮১৬ কোটি টাকার শুল্ক-কর আদায় করেছিল। শেষ অর্থ বছরে তা বেড়ে দাড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা।








