কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে একজন ইউক্রেনীয় নারী ইউটিউবারকে রাশিয়ান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। ওই নারী বলেছেন, আমি চাই না কেউ মনে করুক যে- আমি আমার জীবনে কখনও এরকম ভয়ঙ্কর কিছু বলেছি। রাশিয়া তাদের প্রচারের জন্য ইউক্রেনীয় মেয়েদের ব্যবহার করে। এটা তাদের এক ধরনের পাগলামী।
বিবিসি জানিয়েছে, ওলগা লোয়েক (২১) নামের ওই ইউক্রেনীয় নারী চীনা সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন ভিডিওতে নিজেকে দেখতে পান। যা আসলে তিনি ছিলেন না। জেনারেটিভ এআই টুল ব্যবহার করে তার মুখ দেখানো হয়েছে।
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ওলগা বলেন, আমি আমার মুখ দেখতে এবং আমার ভয়েস শুনতে পাচ্ছিলাম। তবে এটি খুব ভয়ঙ্কর ছিল, কারণ আমি নিজেকে এমন কিছু বলতে দেখেছি যা আমি কখনও বলিনি।
তিনি বলেন, সোফিয়া, নাতাশা, এপ্রিল এবং স্টেসি নামে কয়েক ডজন অ্যাকাউন্টে তার ছবি এবং ভিডিও দেখা গেছে। সবাই ম্যান্ডারিন ভাষায় কথা বলছিল, যে ভাষা আমি কখনো শিখেনি। এটি রাশিয়ান ভাষা। ভিডিওগুলোতে চীন-রাশিয়া বন্ধুত্ব বা রাশিয়ান পণ্য সম্পর্কে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছিল।
তিনি জানান, আমি দেখেছি ৯০ শতাংশ ভিডিওতে চীন-রাশিয়ার বন্ধুত্বের কথা বলা হয়েছে যে ‘আমাদের শক্তিশালী মিত্র হতে হবে’। সেইসাথে খাবারের বিজ্ঞাপনও ছিল।
সবচেয়ে বড় অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে একটি ছিল “নাতাশা ইম্পোর্টেড ফুড” নামের, যেখানে ৩ লক্ষ অনুসারী ছিল। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে করা ভিডিওগুলোতে বলা হয়, রাশিয়া সেরা দেশ। এটা দুঃখজনক যে অন্যান্য দেশ রাশিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
ওলগা লোয়েক বলেন, ২০২৩ সালে তাকে ভিডিওগুলোতে দেখা যায়। তখন তার পরিচিত অনেকেই জানান যে তারা তাকে চীনা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ম্যান্ডারিন ভাষায় কথা বলতে দেখেছে। ওলগা জানান, তিনি অনুসন্ধান করে ৩৫টি এরকম অ্যাকাউন্ট খুঁজে পেয়েছেন যেখানে তাকে দেখা যাচ্ছে।
ওলগা’র প্রেমিক বিষয়টি নিয়ে এক্সে পোস্ট করলে ‘হেয়জেন’ নামের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দাবি করে, এআই ব্যবহার করে এমন কাজ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, তার মুখ ব্যবহার করে ৪,৯০০ টিরও বেশি ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।
হংকং ইউনিভার্সিটির অ্যাঞ্জেলা ঝাং বলেছেন, ওলগার সাথে যা ঘটেছে তা “চীনে খুবই সাধারণ”। তিনি বলেন, দেশটি একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ অর্থনীতির আবাসস্থল- যা জাল, ব্যক্তিগত ডেটার অপব্যবহার এবং ডিপফেক তৈরিতে বিশেষজ্ঞ।








