কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর একটি নতুন প্রযুক্তি এমন পুরুষদের শুক্রাণু কোষ শনাক্ত করতে পারছে, যাদের বলা হয়েছিল তাদের কোনো শুক্রাণুই নেই, ফলে তারা সন্তান জন্মে অক্ষম। এটি বহু বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করে আসা দম্পতিদের আবারও সুযোগ করে দিচ্ছে সন্তান নেওয়ার।
বুধবার (১৩ মে) সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে কাজ শেষে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন পেনেলোপ নামের এক নারী। এসময় তার ফোনে কল দিয়ে তার চিকিৎসক জানান, দুই বছর ছয় মাসের যন্ত্রণাদায়ক চেষ্টার পর, তিনি অবশেষে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন।
বিভিন্ন পরীক্ষার পর পেনেলোপ ও তার স্বামী স্যামুয়েল জানতে পেরেছিলেন, স্যামুয়েলের ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম আছে। এটি একটি জিনগত অবস্থা, যেখানে পুরুষরা একটি অতিরিক্ত এক্স ক্রোমোজোম নিয়ে জন্মান এবং যা অনেক সময় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত শনাক্ত হয় না।
ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোমে আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষের বীর্যে খুব কম শুক্রাণু থাকে বা একেবারেই থাকে না বলা চলে। এই অবস্থাকে বলা হয় অ্যাজোস্পার্মিয়া। প্রায় ১০ শতাংশ বন্ধ্যা পুরুষ অ্যাজোস্পার্মিয়ায় ভোগেন।
আনন্দ ও অবিশ্বাস নিয়ে পেনেলোপ সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকেন যখন স্যামুয়েল বাড়ি ফিরলে খবরটি তাকে জানাবেন।
“ওর মুখে একের পর এক অনুভূতির ঢেউ দেখা যাচ্ছিল,” তিনি বলেন। “ও কেঁদে ফেলেছিল… এত পরিশ্রম, সময় আর গবেষণার পর আমরা শেষ পর্যন্ত সেই জায়গায় পৌঁছালাম। আমাদের হাতে মাত্র একটা ভ্রূণ ছিল, সেটাই সফল হয়েছে। এটা দেখে আমরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম।”
তাদের এই গর্ভধারণ সম্ভব হয়েছে একটি নতুন কৌশলের কারণে, যার নাম স্টার (স্পার্ম ট্র্যাক অ্যান্ড রিকভারি) সিস্টেম।


