বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির তিন দিনব্যাপী ‘চলচ্চিত্র উৎসব: একাল সেকাল’-এ হাউজফুল প্রদর্শনী হয়েছে মোহাম্মদ নূরুজ্জামান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘মাস্তুল’-এর। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত ৮টায় জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ছবিটির প্রদর্শনী ঘিরে দর্শকের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
প্রদর্শনীর আগে থেকেই মিলনায়তনের সামনে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন দর্শকরা। দরজা খোলার পর অল্প সময়ের মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যায় হলের সব আসন। এরপরও দর্শকের উপস্থিতি অব্যাহত থাকায় অনেকেই সিঁড়িতে বসে সিনেমা দেখেন। এমনকি প্রথম সারির সামনের মেঝে ও যাতায়াতের পথেও জায়গা করে নেন অনেকে। মিলনায়তনের বাইরে জায়গা না পাওয়া দর্শকদেরও অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
এমন দর্শক উপস্থিতিতে অভিভূত ‘মাস্তুল’-এর নির্মাতা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান। প্রদর্শনীর অভিজ্ঞতা নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে তিনি জানান, দর্শকের দীর্ঘ সারি দেখে তাঁর মনে হয়েছিল মিলনায়তনের আসনসংখ্যার চেয়ে দর্শক অনেক বেশি। পরে হলের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে সব আসন পূর্ণ হয়ে যায়।
নির্মাতা জানান, সিনেমা চলাকালে দর্শকদের হাততালি, অট্টহাসি ও গুঞ্জনে মিলনায়তন মুখর হয়ে ওঠে। তাঁর মতে, বড়পর্দায় দর্শকদের সঙ্গে একসঙ্গে সিনেমা দেখার যে অভিজ্ঞতা, ঘরে বসে তা পাওয়া সম্ভব নয়।
শুধু প্রদর্শনী চলাকালীন নয়, সিনেমা শেষ হওয়ার পরও দর্শকদের বড় একটি অংশ মিলনায়তনে থেকে যান। প্রশ্নোত্তর পর্বেও দর্শকদের উপস্থিতি ছিল। বিষয়টি নির্মাতাকে আরও বেশি আনন্দিত করেছে।
দর্শকের এই প্রতিক্রিয়াকে ‘মাস্তুল’ টিমের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করে মোহাম্মদ নূরুজ্জামান বলেন, দেশের দর্শকদের সঙ্গে এত উপভোগ্য একটি সেশন এর আগে তাঁদের হয়নি। ছবিটির অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুও এ প্রদর্শনীকে মঞ্চে সরাসরি পারফরম্যান্সের তৃপ্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন বলে জানান নির্মাতা।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত ‘চলচ্চিত্র উৎসব: একাল সেকাল’-এ দর্শকদের জন্য বিনামূল্যে ছয়টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে ‘মাস্তুল’-এর পাশাপাশি প্রদর্শিত হয় খান আতাউর রহমান পরিচালিত ক্লাসিক চলচ্চিত্র ‘আবার তোরা মানুষ হ’।
‘মাস্তুল’ নির্মিত হয়েছে নদী, বন্দর ও প্রান্তিক মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করে। চলচ্চিত্রটির গল্পে উঠে এসেছে পুরোনো তেলবাহী জাহাজের রাঁধুনি মকবুল এবং বন্দরের পথশিশু নূরার জীবন ও তাদের সম্পর্কের নানা অনুভূতি।
শিল্পকলার হাউজফুল প্রদর্শনী নিয়ে নির্মাতার ভাষ্য, দর্শকের এই ভালোবাসা ‘মাস্তুল’ টিমের জন্য বিশেষ প্রাপ্তি। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই শিল্পকলা একাডেমিতে ছবিটির আরও একটি প্রদর্শনী হতে পারে।








