মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায় আজ ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করবেন।
আজ (২৫ আগস্ট) মঙ্গলবার রায়ের মাধ্যমে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে কি না, নাকি সাজা পরিবর্তন হবে সেবিষয়ে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত জানা যাবে। সোমবার (২৪ আগস্ট) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত। শুনানিতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৫ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। অভিযোগ ওঠে, তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে। ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয় এবং ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।
মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম। ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ১৩ মে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। এরপর ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান রায় ঘোষণা করেন।রায়ে শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মামলার অপর তিন আসামি শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ছোট ভাই এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।
বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি গত বছরের ২১ মে উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। পরে নথি যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে ওঠে।









