হত্যা মামলাসহ পাঁচ মামলায় আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত
হত্যার অভিযোগে চারটিসহ পৃথক পাঁচ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।
জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক আজ বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো ৯ মার্চ আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ওই পাঁচ মামলার মধ্যে চারটি ফতুল্লা থানায় করা হত্যা মামলা এবং অপরটি হচ্ছে হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় করা মামলা। এই পাঁচ মামলায় জামিন চেয়ে সেলিনা হায়াৎ আইভীর করা আবেদনের শুনানি নিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল দিয়ে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। আবেদনগুলো চেম্বার আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ৪০ থেকে ৪৪ নম্বর পর্যন্ত ক্রমিকে ওঠে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম সুমন ও মো. আক্তারুজ্জামান শুনানিতে ছিলেন। আইভীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন ও মোতাহার হোসেন সাজু এবং আইনজীবী এস এম সিদ্দিকুর রহমান শুনানিতে ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম সুমন বলেন, পাঁচ মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। আবেদনগুলো ৯ মার্চ আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছরের ৯ নভেম্বর জামিন পান কারাবন্দী সেলিনা হায়াৎ আইভী। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আবেদনগুলো আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়।
আইভীর আইনজীবীর তথ্য অনুসারে, প্রথম পাঁচ মামলায় গত বছরের ৯ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর আইভীকে একই বছরের ১৮ নভেম্বর আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই পাঁচ মামলায় ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। এই জামিনাদেশ আজ চেম্বার আদালতে স্থগিত হলো।
আর যেদিন (২৬ ফেব্রুয়ারি) উচ্চ আদালত থেকে আইভী পাঁচ মামলায় জামিন পান, সেদিন রাতে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন আজ নামঞ্জুর করেছেন নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক।
২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।






